12.4.09

Nova

দোয়া পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াই: নোভা

Nova-004এবার থাকছে নবীন অভিনেত্রী নোভার বিশেষ সাক্ষাৎকার। নিয়েছেন মীর সামী।


এই প্রজন্মের অভিনেত্রী নোভার জীবনের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। ফলে আইনজীবী হতে চাওয়া মেয়েটির অভিনেত্রী বনে যেতে কোনো সমস্যা হয় নি। আর বিয়ে করলে এমন ছেলেকেই করবেন বলে তিনি জানিয়েছেন মীর সামীকে যে তাকে এবং তার পরিবারকে বুঝবে।


গেল বছরটা কেমন কাটলো?
'০৮ সাল ভালো- মন্দ মিলিয়ে কেটে গেল। নানা প্রতিষ্ঠান থেকে পাঁচটি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। আর কয়েকটি ভালো ভালো নাটকে অভিনয় করেছি।


নতুন বছরের কোনো পরিকল্পনা করেছেন?
আসলে আমি কোনোদিন পরিকল্পনা করে কোনো কাজ করিনি। ফলে এ বছরের জন্য আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। যখন যেটা ভালো লাগে তাই করি।


গত বছরে নিজের উল্লেখযোগ্য কাজগুলো কি কি?
গেল বছর আমি বেশ কিছু ভালো কাজ করেছি বলে আমার ধারণা। এর সবগুলোর নাম এখন মনে পড়ছে না। তবে চয়নিকা চৌধুরীর 'বৈশাখNova-020 থেকে শ্রাবণ', 'তোমার জন্য' দীপংকর দীপনের 'স্বপ্নজাল', শাহরুখ শহীদের রচনা ও এস এ হক অলিকের পরিচালনায় 'নন্দিনী এবং অসমাপ্ত গল্প' আমার কাছে ভালো লেগেছে। এর বাইরে বাংলালিংক দেশ 'একটু নতুন করে দেখলেই হয়', 'প্যারাসুট' এবং 'তীর চিনি'- এই বিজ্ঞাপনগুলো করেছি।


ক্যারিয়ারের শুরু থেকে অনেক নামকরা অভিনেতা- অভিনেত্রীর সাথে কাজ করেছেন। তাদের সাথে কাজের অভিজ্ঞতা...?
আমার প্রথম নাটক ছিল 'প্রেম ও ঘামের গল্প'। এটা বানিয়েছিলেন অনিমেষ আইচ। এখানে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহিদ ভাই (জাহিদ হাসান)। আগে তার নাটকে দেখলেও এটাই তার সাথে আমার প্রথম কাজ। এতো বিখ্যাত একজন অভিনেতার সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। আর প্রথম যখন শট দিতে গিয়েছিলাম, আমার মনে আছে- আমি ভয়ে কাঁপছিলাম। জাহিদ ভাই ব্যাপারটা ধরতে পেরেছিলেন। এক সময় তিনি আমাকে কাছে ডেকে নিলেন। বললেন, "ভয় করছে খুব?" আমি মাথা নেড়ে জানালাম, কথা সত্য। তিনি তখন বললেন, "তুমি একটু দোয়া পড়ে বুকে ফুঁ দাও। এতে কাজ হয়ে যাবে।" এরপর তিনি আমাকে দোয়াটি শিখিয়ে দিলেন। আর আমি সেটা পড়ে বুকে ফুঁ দিয়ে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। শুরু করলাম। এখনো ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে গেলেই জাহিদ ভাইয়ের কথাটা মনে পড়ে। আর আমি সেই দোয়াটা পরে বুকে ফুঁ দিয়ে শুরু করি। দোয়াটা হলো- 'ইয়া মুকাদ্দিমু' আর 'লা ইলাহা ইল্লা আন্তা সুবহানাকা ইন্নি Nova-027কুন্তু মিনাজ জোয়ালেমিন'। আর নানা কাজের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সিনিয়র ভাইয়া, আপুদের কাছে থেকে নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারি। এটা পরে অনেক কাজে লাগে।


এখন কি কি কাজ করছেন?
এখন কাজ করছি অরণ্য আনোয়ারের 'ঘোড়ার ডিম', ইফতেখার আহমেদ ফাহমী ও রেদওয়ান রনীর 'হাউজফুল', অরুণ চৌধুরীর 'গাইড ট্যুর' নাটকে। এর বাদেও এক পর্বের নাটকে তো অভিনয় করছিই।


একসঙ্গে এতোগুলো নাটকে কাজ করতে গিয়ে চরিত্র নিজের মধ্যে ধারণ করতে বা পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না?
আমি নিজের ক্ষমতা বুঝে একটি কাজে হাত দেই। ফলে কোনো সমস্যা হয় না। এখন পর্যন্ত যে কয়টি নাটকে অভিনয় করেছি তার সবগুলো চরিত্রই একটার চেয়ে আরেকটা। আর চরিত্রের মধ্যে ভিন্নতা না থাকলে কাজ করে কোন মজা পাওয়া যায় না। আর অমার মনে হয়, নাটকেরNova-013 প্রতিটি চরিত্রই একটা নিদিষ্ট সময়ের জন্য। আমারা আসলে এক রকমের মুখোশ পরে অভিনয় করি। যেটা খুললেই আসল চরিত্রটি বেরিয়ে আসবে।


কোন ধরনের নাটকে কাজ করে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন?
এমন কোনো বিষয়ে আমি বিশ্বাসী না।


গ্ল্যামারের আড়ালে কি অভিনয় চাপা পড়ে?
এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত একটা ধারণা। এই কথা আমি মানি না। আমার কাছে মনে হয় আগে অভিনয়, পরে গ্ল্যমার। তবে একথা ঠিক যে অভিনয়ের সাথে গ্ল্যামার থাকলে সেটা একটা প্লাস পয়েন্ট হয়।। যদি শুধু গ্ল্যমার দিয়ে কাজ করা যেত তাহলে এদেশে সুর্বণা- ফরিদীর মতো শিল্পীর জন্ম হতো না।


মিডিয়াতে কিভাবে এলেন?
আমার ক্যারিয়ারের প্রথম উল্লেখযোগ্য অর্জন 'ইউ গট দ্যা লুক' প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হওয়া। এই কাজের মাধ্যমেই পরিচালকদের নজরে আসি। আর নিজের অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরুতে কিছু ভালো কাজ করতে পেরেছি। হুমায়ূন আহমেদের গল্প থেকে অনিমেষ আইচের 'নিষাদ', ফেরদৌস হাসানের ডেইলি সোপ 'মহানগর', নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুলের 'নেলসন নাম্বার ১১১' ছাড়াও আমার প্রথম নাটক 'প্রেম ও ঘামের Nova-025গল্প'- আমার ক্যারিয়ারের ভিত শক্ত করেছে বলে আমি মনে করি। এখনো আমি প্রতিদিনই নিজেকে আরও বেশি সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছি। আমাদের প্রকৃতি পরিবর্তনের মতো আমি নিজেকে নানা ভাবে পরিবর্তন করতে চাই। সেজন্য চেষ্টা করি সবসময় ভালো কাজের সাথে জড়াতে।


অভিনয়ে কাকে ফলো করেন?
সুবর্ণা মুস্তাফা , শমী কায়সার আর আফসানা মিমির অভিনয় এখনো আমার চোখে ভাসে। সেই ছোট বেলা থেকে এখনো মনে হয়, আহা, আমিও যদি তাদের মতো অভিনয় করতে পারতাম। তাদের দেখে মুলত আমার অভিনয় জগতে আশা। ফলে ওভাবে বলতে গেলে আমার কোন আইডল নেই।


ছোটবেলায় কি হতে চেয়েছিলেন?
ছোটবেলাতে একসময় ভাবতাম 'ল ইয়ার' হব। আবার আকাশ দিয়ে কোন বিমান উড়ে গেলে মনে হতো, পাইলট হয়ে আকাশে উড়ে বেড়াব। তবে এখন মনে হয়, জীবন একটি বহতা নদীর মতো। কোথায় গিয়ে কখন থামবে তা আমরা কেউই বলতে পারি না। তাই আসলে আমি জীবনে কী হবো সেটা বলা যাবে না বলেই এখন আমি মনে করি।


সিনেমায় অভিনয় করবেন?
এখনই আমি সিনেমা নিয়ে কোনোকিছু ভাবতে চাই না। কারণ এটা অনেক বড় মাধ্যম। যেখানে কাজ করতে গেলে অনেক কিছু শেখা লাগে আছে।


বিয়ে করবেন কবে?
বিয়েটা আসলে এখনই বলতে পারছি না। সব কিছু নির্ভর করছে ভাগ্যের ওপর। তবে বিয়ে করলে সবাইকে জানিয়ে, ঘটা করে করব।


পাত্র কেমন চান?
যে আমাকে এবং আমার পরিবারকে বুঝবে।


সুত্র - গ্লিটস/৭ ডিসেম্বর ২০০৮

Emon

টেনশনে আমার ঘুম নেই: ইমন

Emon1204d

খুব সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই ছেলেটি এক সময় জাতীয় দলের ক্রিকেটার হবার স্বপ্ন দেখতো। লাজুক টাইপের, জেদী এই নবীন আমাদের ছবির জগতে নতুন দিনের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে। এবার ইমনের গল্প। তার মুখোমুখি হয়েছেন মীর সামী।

'একবুক ভালোবাসা' ছবি সম্পর্কে বলুন।

'Emon1204aএকবুক ভালোবাসা' নায়ক হিসেবে আমার প্রথম ছবি। এবারের ঈদে ছবিটি মুক্তি পাবে। ফলে টেনশনে আমার ঘুম নেই। উঠতে, বসতে, খেতে এবং ঘুমাতে যাবার সময়ও আমি 'একবুক ভালোবাসা'র কথা চিন্তা করি। সারাক্ষণ কায়োমনোবাক্যে প্রার্থনা করি, আমার ছবিটি যেন ভালোভাবে দর্শক গ্রহণ করেন। আর আমি বিশ্বাস করি, আমার ছবিটি একবার দর্শক দেখলে পছন্দ করবেনই। কারণ এই ছবির সাথে জড়িত সবাই-ই অনেক বেশি মনোযোগ দিয়ে কাজ করেছেন। আমি একটা জিনিস বিশ্বাস করি যে, অনেক ভালোবাসা দিয়ে যে কাজই করা হয় না কেন সেটা সফল হবেই।




আমরা জানি, প্রথম ছবি 'দারুচিনি দ্বীপ'-এ ভালো অভিনয়ের পর অনেক পরিচালকই আপনাকে ছবিতে কাজ করার অফার দিয়েছেন। কিন্তু এতো পরিচালক থাকতে ইস্পাহানী আরিফ জাহানের সাথে কাজ করতে আগ্রহী হলেন কেন?

ইস্পাহানী আরিফ ভাইদের সঙ্গে আমার যেদিন পরিচয় হয় সেদিন তাদের ব্যবহারে আমি দারুণ মুগ্ধ হয়েছি। আমি যখন ছবিতে অভিনয় করতাম না তখন লোকমুখে শুনতাম, আমাদের দেশের এফডিসির পরিচালকদের মন-মানসিকতা সেকেলে টাইপের। কিন্তু তাদের এবং সোহানুর রহমান সোহান ভাইয়ের সাথে কথা বলে আমার কখনো মনে হয়নি, তাদের মানসিকতা সেকেলে। বাংলা ছবির ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে এসে আমার সেই সময়ে জন্ম নেওয়া ধারণাটা পাল্টে গেল। আর আমি মনে করি, এফডিসির সবার ব্যবহারই আমার ভেতরে এই বোধ জন্ম দিয়েছে। তারা আমাকে যেভাবে গ্রহণ করেছেন তাতে আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ।




ছবির ভুবনে কিভাবে এলেন?

'০৬ সালের কথা। আমি তখন বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপনের মডেল হিসেবে কাজ করে কিছুটা পরিচিতি পেয়েছি। একদিন চ্যানেল আইয়ের ইবনে হাসান খান আমাকে ডেকে বললেন, "ইমন, তুমি আমাদের নতুন ছবি 'দারুচিনি দ্বীপ'-এ অভিনয় করবে? এটি পরিচালনা করবেন তৌকির আহমেদ।" এই প্রস্তাবের পর আমি কোনোকিছু না ভেবে রাজি Emon1204bহয়ে গেলাম। 'দারুচিনি দ্বীপ'-এ আমি সঞ্জু চরিত্রে অভিনয় করেছি। এই চরিত্রটি করার পরে আমার পরিচিতি আরো বেড়ে গেল। তখন আমি রাস্তায় বেরুলেই হলেই সবাই জানতে চাইতো, "আপনি দারুচিনি দ্বীপের সঞ্জু না?" এই ব্যাপারটায় আমার খুব মজা লেগেছে। এরপর এফডিসির অনেক পরিচালকই আমাকে নিয়ে ছবিতে অভিনয়ের অফার দিয়েছেন। তবে আমি সময় নিয়েছি। কারণ আমি জানতাম, নিজেকে নায়ক হিসেবে দেখতে হলে অনেক কিছু পারতে হবে। এই সময়টুকুর মধ্যে আমি নিজেকে তৈরি করেছি। তারপর পরিচয় হলো ইস্পাহানী ভাইয়ের সাথে। তিনি আমাকে তার নতুন ছবির গল্পটি বললেন এবং জানালেন আমার নায়িকা হবেন অপু বিশ্বাস। আর আমিও রাজি হয়ে গেলাম। আমার মনে হয় ছবিতে কাজ করব বললেই হয় না।




নাটকেও তো অভিনয় করেছেন। নাটক, সিনেমার মধ্যে পার্থক্য কী?

নাটক এবং সিনেমা দুটো পুরোটাই আলাদা মাধ্যম। ছবির সবকিছুতেই একটা ফিল্মি ভাব থাকতে হবে। আমি 'একবুক ভালোবাসা' ছবিতে কাজ করতে গিয়ে প্রোডাকশন বয় থেকে শুরু করে ছবির পরিচালক-সবার কথা বোঝার চেষ্টা করেছি। আর যেটা শেখার প্রয়োজন ছিল সেটা হলো নাচ এবং মারপিট জানা। একসময় আমি বাংলা ছবি দেখে হাসতাম। কারণ, সেই সময়ের নায়কদের নাচ-মারপিট ছিল হাস্যকর। কিন্তু ফিল্মে এসে বুঝলাম, নাচ এবং মারামারি কতোটা কঠিন সেটা বলে বোঝানো যাবে না। এই ছবির নাচ এবং মারপিটে আমি যদি কোনো কৃতিত্ব দেখিয়ে থাকি, তার পুরোটাই পাবেন নৃত্য পরিচালক মাসুম বাবুল ও অ্যাকশন ডিরেক্টর আরমান ভাই।




বলুন তো মিডিয়াতে কিভাবে এলেন?

আগে আমরা থাকতাম মুগদাপাড়া। একদিন নটরডেম কলেজে খেলতে গিয়েছি। তখন কলেজে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং হচ্ছিল। পরিচালক তারিক আনাম খান। আমি তাকে আগে টেলিভিশনে দেখেছি। ঐ সময় কলেজে উপস্থিত আমার এলাকার এক ছোট ভাইয়ের মা তারিক আনাম খানের সাথে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি আমার সামনেই তাকে বলেন, "এই ছেলেকে দিয়ে আপনি মডেলিং করাতে পারেন।" তখন তারিক আনাম আমাকে তার সাথে দেখা করার জন্য একদিন আমাকে পাবলিক লাইব্রেরিতে আসতে বললেন। তার সাথে দেখা করার দিন, তারিখ এখন মনে নেই। যাই হোক, আমার মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করতে থাকলো।




তারপর কী হলো?

পাবলিক লাইব্রেরিতে গিয়ে দেখি, সেখানে আরো অনেক ছেলে-মেয়ে হাজির। আমাদের দুটো দলে ভাগ করা হলো। আমি যে দলে পড়লাম, সেটার সবাই ভাবতে শুরু করলাম যে, আমাদের বাদ দিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু পরে তারা জানালেন, আমাদেরকে নির্বাচন করা হয়েছে। ওফ, কি যে ভালো লেগেছিল!

ওখানে আমার সাথে আরো কয়েকটি ছেলের পরিচয় হয়েছিল। তবে তাদের সাথে আমি আর কোনো যোগাযোগ করিনি। হঠাৎ একদিন তারিক আনাম খানের বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে পরিচয় হওয়া একটি ছেলে ফোন করে বললো, আমি যেন নিজের কিছু ছবি বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থায় জমা দিয়ে আসি। তখন আমার একটিও ভালো ছবি তোলা ছিল না। ফটোসেশন যে করব সে টাকাটাও কাছে নেই। উপায়ান্তর না দেখে বাসায় আম্মুকে সমস্যার কথাগুলো বললাম। তারপর বাবা -মাকে অনেক কষ্টে রাজি করিয়ে চঞ্চল মাহমুদের কাছে হাফরিল ছবি তুলি। সেই ছবিগুলো জমা দিলাম, এশিয়াটিক আর মাত্রা'য়। এরপর আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লাম পড়ালেখা নিয়ে।

হঠাৎ একদিন বাংলার মেলার এমদাদ ভাই (এমদাদ হক, ডিজাইনার) আমাকে ফোন করে বললেন, "আফজাল ভাইয়ের (আফজাল হোসেন, মাত্রার প্রধান) কাছে আমার ছবি দেখে পছন্দ হয়েছে।" তিনি আমাকে তার সাথে কাজ করতে প্রস্তাব দিলেন। আমি কিন্তু তাকে তখন চিনি না। যাই হোক, আমি তার অফিসে গেলাম। ওখানে যাবার পর দেখলাম, এখন যারা র‌্যাম্প কাঁপিয়ে বেড়ান তারা অনেকেই হাজির। তারপর সেদিন আমি বাংলার মেলার ডিজাইনে কয়েকটি পোশাকের মডেল হলাম। এই ফটোশুটের কয়েকটি ছবি ছাপা হয় ডেইলি ষ্টারের ফ্যাশন ম্যাগাজিনে। ম্যাগাজিনটা দেখার পর আমার মনের মধ্যে এক রকমের ভালো লাগা কাজ করতে থাকে। এরপর থেকে আমি সিরিয়াসলি মডেলিংয়ের চিন্তা করলাম।

ম্যাগাজিনের ছবি দেখে বিজ্ঞাপন নির্মাতা শাহরুখ আমিন টিংকু আমাকে ফোন করে বলেন, "একটা বিজ্ঞাপনের শুটিং করব কলকাতায়। তোমার পাসর্পোট আছে?" তখন আমার পাসর্পোট ছিল না। অনেক কষ্ট করে পাসপোর্ট বানালাম এবং জীবনের প্রথম বিজ্ঞাপনের শুটিং করলাম কলকাতায়। পণ্যটি ছিল তিব্বত সেন্ডেলিনা পাউডারের। কলকাতাতে আমরা ৫ দিন ছিলাম।




যদি নায়ক বা মডেল না হতেন তবে কী হতেন?

যদি নায়ক না হতাম তাহলে ক্রিকেটার হতাম। কারণ আমরা যখন মুগদা থাকি তখন একটা ক্রিকেটের দল করেছিলাম এলাকার বন্ধুরা মিলে। দলের নাম 'ড্রিমল্যান্ড'। আমরা বন্ধুরা স্বপ্ন দেখতাম একদিন বাংলাদেশের ন্যাশনাল টিমে খেলব। জানেন, তখন আমি খুব ভালো ব্যাটিং করতাম। কিন্তু ফিল্ডিংয়ে খুব খারাপ ছিলাম। একবার আমরা খেলতে গিয়েছি। যেখানে অনেক মেয়ে দর্শক ছিল। তাদের দেখে আমি তো ইচ্ছে করেই মাঠের মধ্যে লাফালাফি করতে শুরু করলাম। আর এই লাফাতে লাফাতে হঠাৎ একটা বল এসে আমার হাতের তালুতে জমা হয়ে গেল! আর এটা দেখে সবাই ভাবতে শুরু করলো, "জন্টি রোডস এসে গেছে।" পরে আমি ড্রিমল্যান্ডের ক্যাপ্টেনও হয়েছিলাম।

কিছুদিন আগে খবর বেরিয়েছিল ইমন বিয়ে করেছেন! আসলেই কি বিয়ে করেছেন?
প্রথমতঃ আমি বিয়ে করেছি- এই খবরটা ছিল একটা মিথ্যা খবর। আমি চলচ্চিত্রে এসেছি এটা অনেকে মেনে নিতে পারছেন না। তারাই গুজব ছড়িয়েছেন, আমি বিয়ে করেছি। পরে অবশ্য আমি প্রতিবাদ করায় তারা সংশোধনী ছেপেছেন।




সত্যি করে বলুন-কবে বিয়ে করবেন?

বিয়েটা পুরোপুরি নির্ভর করে খোদার উপরে। তবে বিয়ে করব নিশ্চিত এবং সেটা সবাইকে জানিয়েই করব।





Emon1204c



কেমন পাত্রী পছন্দ?

অসম্ভব রূপবতী হতে হবে এমন নয়। আমি তাকেই বিয়ে করব যে আমাকে বুঝবে, আমিও তাকে বুঝব। আর তার মনটা হতে হবে অনেক বেশি সুন্দর।




প্রেম করছেন?

হ্যা, তবে কোন মেয়েকে আমি ভালোবাসি না। আমি প্রেম করি আমার কাজের সাথে।




আপনার তো প্রেমপত্র পাবার কথা! আপনি দেখতে হ্যান্ডসাম...।

প্রেমপত্র জীবনে কখনো পাইনি -এটা বলব না। ...প্রেমপত্র নিয়ে আমার একটা আমার একটা মজার অভিজ্ঞতার গল্প বলি। শান্তিনগরে এক স্যারের কাছে তখন অংক শিখতাম। দশজনের ব্যাচে ছেলে আমরা মাত্র তিনজন। বাকি সাতজনই মেয়ে। এই সাতটা মেয়ের কাছে থেকেই আমি এক সপ্তাহে সাতটা চিঠি পেয়েছিলাম। পরে অবশ্য ভয়ে সেই স্যারের কাছে আর পড়তে যাইনি!




এবারের ঈদে আপনার কোনো নাটক প্রচারিত হবে?

না। আমি আমার অসংখ্য ভক্তদের জন্য এবার ছবিতে অভিনয় করছি। আমার বিশ্বাস তারা হলে গিয়ে আমার ছবি দেখবেন, আমাকে দেখবেন। নাটক পুরোপুরি বাদ দেইনি। তবে এ মাসে ছবির কাজ নিয়ে দারুণ ব্যস্ত থাকায় নাটকে অভিনয় করা হয়ে ওঠেনি।




কতোদূর যেতে চান?

আমি নিজেকে একজন ভালো অভিনেতা হিসেবে দেখতে চাই। লোকে যেন আমাকে দেখে বলে, "ইমন অনেক ভালো অভিনয় করে"।




এবার নিজের বাবা-মা, ভাই-বোনদের নিয়ে বলুন।

আমার জন্ম হয় ঢাকার গোপীবাগে। বাবার নাম আব্দুল বাসেদ মিয়া আর মা মাসুদা আক্তার। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে আমি সবার ছোট। ফলে আমি খুব আদরে বড় হয়েছি। ছেলেবেলা থেকেই আমি খুব জেদী টাইপের। পাঁচ কী ছয়মাস বয়সে আমরা গোপীবাগ থেকে আমরা মুগদা চলে আসি। আমার প্রথম স্কুল 'মুগদাপাড়া মান্ডা স্কুল'। এখান থেকে এইচএসসি পাশের পর ভর্তি হই ঢাকা সিটি কলেজে। এরপর ঢাকা কলেজ থেকে অনার্স করি ম্যানেজমেন্টে। এখন স্টামফোর্ড ইউনির্ভাসিটিতে এমবিএ পড়ছি। ছোট্টবেলায় আমি খুব লাজুক টাইপের ছিলাম।

সুত্র - গ্লিটস/৪ ডিসেম্বর ২০০৮

9.4.09

Shirshendu Mukharjee

আমার পছন্দ অ্যাকশন আর রোমান্স: শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়

sersendu-01-30-11.jpgশীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় নস্যি নিতে ভালোবাসেন। কথা-বার্তার ফাঁকে ফাঁকে তিনি প্রায়ই একটা ছোট প্লাস্টিকের কৌটা থেকে বার বার একচিমটি নস্যি নিয়ে সেটা নাকের ভেতর পাস করে দিচ্ছিলেন। তারপর চোখ বন্ধ করে শ্বাস নিচ্ছিলেন জোরে। এই নেশায় আসক্ত, খালি গায়ে, ধুতি পরা প্রখ্যাত ভারতীয় লেখকের সঙ্গে ওমর শাহেদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয় শাঁখারিবাজারের একদম শেষদিকে এক পুরনো তিনতলা বাড়িতে। যেটার দোতলায় এক ছোট্ট বারান্দায় বসে গৌরবর্ণের এই লেখক, সাংবাদিক জানিয়েছেন নানা বিষয়ে তার মতামত। বাড়িটিতে ঢুকতেই সাইনবোর্ড লাগানো আছে, 'ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র সৎসঙ্গ, ঢাকা মহানগরী শাখা'। শীর্ষেন্দু যে অনুকূলচন্দ্রের শিষ্য সে কথা তার ভক্ত পাঠকরা ইতোমধ্যে জানেন নিশ্চিত। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করা হয়েছে ২১ নভেম্বর, '০৮ সালে।

গ্ল্লিটজ : আপনার কোন কোন উপন্যাস, গল্প নিয়ে সিরিয়াল বা নাটক হয়েছে?
শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় : এপার বাংলায় অম্লান বিশ্বাস বানাচ্ছে 'যাও পাখি'। এছাড়াও চোখ, দূরবীন, জাল নিয়ে সিরিয়াল হয়েছে।

গ্লিটজ : আপনি টিভি কেমন দেখেন?
শীর্ষেন্দু : প্রচুর। কাজের প্রযোজনে এবং অবসরে আমি অনেকক্ষণ টিভি দেখি।

গ্লিটজ : টিভিতে কী কী দেখেন?
শীর্ষেন্দু : আমি বেশি দেখি কার্টুন। এছাড়াও ছবি দেখি, সিরিয়াল দেখি।

গ্লিটজ : কার্টুনের মধ্যে সবচেয়ে ভালো লাগে কোনটা?
শীর্ষেন্দু : অবশ্যই 'টম এন্ড জেরি'।

tom-and-jerry-30-11.jpg

গ্লিটজ : আর কাজের প্রযোজনে কোন কোন চ্যালেন দেখেন?
শীর্ষেন্দু : নিউজ চ্যানেলগুলোই বেশি দেখা হয়। এর মধ্যে 'টাইম নাউ', সিএনবিসি, বিবিসি-ই বেশি দেখি।

গ্লিটজ : আপনি তো 'দেশ' পত্রিকায় কাজ করেন। সেখানে আপনার পদ কী?
শীর্ষেন্দু : আমি দেশে অ্যাসিসেন্ট এডিটর হিসেবে কাজ করি।

গ্লিটজ : আপনাকে কী ধরণের কাজ করতে হয়?
শীর্ষেন্দু : এখন তো নানা রকম ফিচারই বেশি লিখি। আর ফরমায়েশী লেখাগুলোও লিখতে হয়।

গ্লিটজ : 'দেশ' তো বাংলাদেশে খুব বেশি বিক্রিত ম্যাগাজিন। আপনারা কি এদেশে এই পত্রিকা কিভাবে চলবে, সে অনুযায়ী পত্রিকায় কী থাকবে সেটা ভাবেন?
শীর্ষেন্দু : সম্পাদকরা সেটা নিয়ে প্রচুর চিন্তা-ভাবনা করেন।

গ্লিটজ : সেটা কী ধরণের?
শীর্ষেন্দু : যাতে এমন কোনো স্পর্শকাতর বিষয় না থাকে যাতে বাংলাদেশের মানুষের সেন্টিমেন্টে আঘাত করবে- সেটা নিয়ে তারা খুব ভাবেন।

গ্লিটজ : আপনার কি এদেশে বন্ধু-বান্ধব আছেন?
শীর্ষেন্দু : মিলনের (ইমদাদুল হক মিলন, লেখক) সঙ্গে যোগাযোগ হয়। আগে হুমায়ূনের (হুমায়ূন আহমেদ) সঙ্গে দেখা হতো। আমার কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় এদেশের এক বন্ধু ছিল। নাম বশীর আল হেলাল। সে যখন বাংলা একাডেমীতে চাকুরি করতো, তখন খুব যোগাযোগ ছিল। এখন সবাই ব্যস্ত হয়ে গেছে।

গ্লিটজ : আপনার কী ধরণের সিনেমা পছন্দ?
শীর্ষেন্দু : অ্যাকশন আর রোমান্স।

গ্লিটজ : আর প্রিয় ছবি কোনগুলো?
শীর্ষেন্দু : 'বাইসাইকেল থিফ', 'অ্যাশেজ এন্ড ডায়মন্ড', 'চার্লি চ্যাপলিন', 'বেনহুর' আমার খুব ভালো লাগে।

গ্লিটজ : প্রিয় নায়ক-নায়িকা?
শীর্ষেন্দু : আমার তো সব পুরোনো দিনের নায়ক-নায়িকা পছন্দ। তোমরা কি তাদের চিনবে?

hepburn-30-11.jpg

গ্লিটজ : না চিনলেও বলেন। কোনো অসুবিধা নেই।
শীর্ষেন্দু : আমার পছন্দের নায়ক গ্রেগরি পেক। আর প্রিয় নায়িকারা হলেন-কিম নোভাক, রিটা হেওয়ার্থ, অড্রে হেপবার্ন।

গ্লিটজ : এখনকার বলিউডের কোনো ছবি ভালো লেগেছে?
শীর্ষেন্দু : এখন তো বলিউডে হাই স্ট্যান্ডার্ডের ছবি হচ্ছে। 'লাগে রাহো মুন্না ভাই' খুব ভালো লেগেছে।

গ্লিটজ : আপনার বলিউডের কারো অভিনয় পছন্দ হয়?
শীর্ষেন্দু : চ্যানেলে যেগুলো দেখায়, সেগুলো মাঝে মধ্যে দেখি। অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান, আমির, সালমান,অক্ষয়-এদের অভিনয় ভালো লাগে।

গ্লিটজ : আর বলিউডের প্রিয় নায়িকা?
শীর্ষেন্দু : মাধুরী, রাণী, দিয়া মির্জাকে ভালো লাগে।

গ্লিটজ : আচ্ছা টালিগঞ্জের কোনো খবর কি আপনি রাখেন?
শীর্ষেন্দু : ওখানে তো ভালো ছবি করে না।

গ্লিটজ : টালিগঞ্জের অবস্থা এতো খারাপ কেন?
শীর্ষেন্দু : আসলে পরিবেশ নেই। ভালো অভিনেতাও নেই।

rituporno-30-11.jpg

গ্লিটজ : আর পরিচালকরা কেমন?
শীর্ষেন্দু : ঋতুপর্ণ ঘোষ, গৌতম ঘোষ-এরা তো ভালো ছবি বানায়।

গ্লিটজ : অভিনেতা সংকট কেন?
শীর্ষেন্দু : যারা একটু চান্স পেয়েছে, তারা বম্বেতে চলে গেছে। ওই যে বিপাশা (বিপাশা বসু), রাণী (রাণী মুখার্জি)-এদের কথাই ধরো না।

rituporna-30-11.jpg

গ্লিটজ : এখনকার কারো অভিনয় ভালো লাগে?
শীর্ষেন্দু : ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তা অভিনয় ভালোই করে।

গ্লিটজ : আর বাংলা ছবিতে আপনার কাকে ভালো লাগে?
শীর্ষেন্দু : আমার তো সব পুরোনো আমলের নায়িকা পছন্দ। সন্ধ্যা রায়, দেবশ্রী প্রিয় নায়িকা।

গ্লিটজ : বাংলাদেশের কোনো ছবি দেখেছেন?
শীর্ষেন্দু : অনেকদিন এই বাংলার ছবি দেখা হয় না। আমাদের ওখানে তো পাওয়া যায় না।

গ্লিটজ : কারো ছবিই কি দেখেননি?
শীর্ষেন্দু : হুমায়ূন বছর তিনেক আগে তার তিনটা ছবি পাঠিয়েছিল। সেগুলো দেখেছি। এখন আর নাম মনে নেই।

গ্লিটজ : কেমন লেগেছে?
শীর্ষেন্দু : ভালো। ও তো খুবই ইন্টেলিজেন্ট।

গ্লিটজ : ভারতে বাংলা ছবির এতো বেহালদশার কারণ কী?
শীর্ষেন্দু : হিন্দি ভাষা, সিরিয়াল আর ছবির খুব উৎপাত। এটাই দায়ী।

গ্লিটজ : আপনি গান কেমন শোনেন?
শীর্ষেন্দু : মোটামুটি।

গ্লিটজ : কী ধরনের গান পছন্দ করেন?
শীর্ষেন্দু : রবীন্দ্রসঙ্গীত, রজনীকান্তের গান, নজরুলগীতি ভালো লাগে। sersendu-02-30-11.jpg

গ্লিটজ : কোন কোন শিল্পীর গান ভালো লাগে?
শীর্ষেন্দু : লতা মুঙ্গেশকর, ওর বোন (আশা ভোঁসলে) ওরা তো দারুণ গায়। হেমন্ত মুখার্জির গান খুব ভালো লাগে। আর তোমাদের দেশের শামা রহমান, বন্যার (রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা) গান খুব ভালো।

গ্লিটজ : নজরুলগীতি সম্পর্কে বলবেন না?
শীর্ষেন্দু : 'শাওন রাতে যদি' গানটা আমার খুব পছন্দ।

গ্লিটজ : কলকাতার যে জীবনমুখী গান সেটা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?
শীর্ষেন্দু : সুমন (কবীর সুমন, সাবেক নাম সুমন চট্টোপাধ্যায়) অসম্ভব ভালো গায়। সে-ই সবচেয়ে ভালো গায়ক, পথপ্রদর্শক। সুমন খুব বড় কবিও। এই দিকে আসলে সে-ই পাওনিয়ার। নচিকেতাও ভালো গায়।

গ্লিটজ : আপনার স্ক্রিপ্ট নিয়ে কি কেউ ছবি বানিয়েছে?
শীর্ষেন্দু : ঋতুপর্ণই (ঋতুপর্ণ ঘোষ) তো বানিয়েছে 'গোঁসাইবাগানের ভূত', 'হিরের আংটি'। 'সাধুবাবার লাঠি' নিয়ে ছবি বানিয়েছে সঙ্গীতা বন্দোপাধ্যায় নামের এক নতুন পরিচালক।

গ্লিটজ : আপনার কাহিনী নিয়ে নতুনরা কাজ করছে। আপনার মতো বিখ্যাত লেখকের লেখা নিয়ে তো সবাই ছবি বানাতে পারে না...।
শীর্ষেন্দু : নতুনদের তো করতে দিতে হবে। ছবি না বানাতে পারলে পারবে না। কিন্তু দিতে তো হবে। আর আমি তো গণক নই যে আগে থেকে বুঝবো কারটা হবে, কারটা হবে না।

গ্লিটজ : অবসর কাটান কিভাবে?
শীর্ষেন্দু : ঘুমাই, টিভি দেখি।

গ্লিটজ : আমাদের দেশের কোন কোন জায়গা আপনার ঘুরতে ভালো লেগেছে?
শীর্ষেন্দু : চট্টগ্রাম, কক্সবাজার।

গ্লিটজ : এখানকার কোনো কিছু কি আপনার খারাপ লেগেছে?
শীর্ষেন্দু : তোমাদের নদীগুলো খুব নোংরা। পুরো বাংলাদেশটাই নোংরা হয়ে যাচ্ছে। সরকারের এই ব্যাপারে সচেতন হওয়া দরকার।

গ্লিটজ : আপনার কোন লেখাগুলো বেঁচে থাকবে বলে মনে করেন?
শীর্ষেন্দু : এটা তো এখন বলা যাবে না। ৪০ বা ৫০ বছর পর বোঝা যাবে।

গ্লিটজ : কোনো বিশেষ ধারণা থেকে লেখেন বা আপনার কোনো দায়বদ্ধতা আছে?
শীর্ষেন্দু : আমি মানুষের মুক্তির জন্য লিখি, কুসংস্কারের বিপক্ষে সংস্কারের জন্য লিখি।

গ্লিটজ : দিনে কতক্ষণ লেখেন?
শীর্ষেন্দু : কোনো কোনো দিন ১২/১৩ ঘন্টাও লিখতে হয়। আবার কোনোদিন একদমই লিখি না। কাজের চাপের ওপর লেখা নির্ভর করে।

গ্লিটজ : ক্রিকেট তো আপনার খুব প্রিয় খেলা। সৌরভের (সৌরভ গাঙ্গুলি) অবসর নেয়াকে আপনি কিভাবে দেখছেন?
শীর্ষেন্দু : বয়স হয়ে গেছে। ৩৬/৩৭ বছর বয়েস হয়ে গেছে। তাই অবসর নিয়েছে।

গ্লিটজ : নিজের লেখা উপন্যাসগুলোর মধ্যে কোনটা বেশি প্রিয়?
শীর্ষেন্দু : সবগুলোই প্রিয়। তবে 'উজান'টা ভালো লাগে। ওইটাতে আমার ছেলেবেলার কথা আছে।

গ্লিটজ : আপনার কয় ছেলে-মেয়ে?
শীর্ষেন্দু : আমার দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলের নাম সম্রাট। মেয়ে দেবলীনা।

গ্লিটজ : কী খেতে পছন্দ করেন?
শীর্ষেন্দু : ভাত আর মিষ্টি।

গ্লিটজ : আবার এখানে কবে আসবেন?
শীর্ষেন্দু : জানি না। তবে মার্চের দিকে আসতে হতে পারে।

গ্লিটজ : আপনার লেখায় ঠাকুর অনুকূলচন্দ্রের কথা থাকে কেন?
শীর্ষেন্দু : উনি আমার গুরুদেব। তাই আসেন।

সুত্র - গ্লিটস/৩০ নভেম্বর ২০০৮

Dr. Inamul Haque

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন : ড. ইনামুল হক

Enamul Haqআপনি তো বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। যতদূর জানি, আপনি এ বছর অবসর নিচ্ছেন। কবে আপনি বুয়েটে শিক্ষক পদে যোগদান করেন?
ড. ইনামুল হক : আমি '৬৪ সালের শেষ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসসি পাশ করে '৬৫ সালের ৭ মার্চ বুয়েটে রসায়ন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করি। আর এবছরের ৭ মার্চ অধ্যাপক হিসেবে অবসর নিয়েছি।

দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা পেশা থেকে অবসর নিয়েছেন। এখন কিভাবে সময় কাটাচ্ছেন?
ড. ইনামুল হক : নাটক করে কাটাচ্ছি। আর আমার দল নাগরিক নাট্যাঙ্গনকে আরো বেশি সময় দিচ্ছি।

অন্য নাটকের দলগুলোর সঙ্গে আপনাদের দলের কোনো পার্থক্য আছে?
ড. ইনামুল হক : আমাদের নাটকের দলে একটা কোর্স চালু করেছি। আমরা এর নাম দিয়েছি-এনএনআইডি (নাগরিক নাট্যাঙ্গন ইনিস্টিটিউট অব ড্রামা)। এই কোর্সের সাতটি ব্যাচ পাশ করে বেরিয়ে গেছে। এখন অষ্টম ব্যাচ পড়ছে। এখানে আমরা নাটকের বিভিন্ন দিক, নাটক নিয়ে নতুনদের নানা কলাকৌশল, অভিনয় শেখাই।

এই দলের যাত্রা কবে থেকে?
ড. ইনামুল হক : '৯৫ সালের এপ্রিলে নাগরিক নাট্যাঙ্গনের যাত্রা শুরু হয়।

আপনাদের দলের ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী? শুধুই কি নাটক করা দলের কাজ?
ড. ইনামুল হক : আমরা এখন টাকা জমাচ্ছি। দলের সদস্যরা ঠিক করেছি, আমরা এই টাকা দিয়ে কয়েকবছর পর জমি কিনব, কোনো সুবিধাজনক জায়গায়। তারপর সেখানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেব আমাদের কার্যক্রমগুলোর।

এই বিষয়ে আপনাদের লক্ষ্য কী?
ড. ইনামুল হক : গত বছর থেকে আমরা প্রতিমাসে ১১ শত টাকা করে জমাচ্ছি। এই টাকা দিচ্ছেন আমাদের দলের ২৫ জন সদস্য। এই টাকা দিয়ে আগেই বলেছি আমরা জমি কিনব। এখানে থিয়েটারভিত্তিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত পরিচালিত হবে। আমরা স্টুডিও থিয়েটার গড়ে তুলবো। আমরা ইনকাম জেনারেটিং কাজকর্মও করতে চাই।

এবার আরেকটা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করি। আপনার দেশের বাড়ি কোথায়?
ড. ইনামুল হক : আমার জন্ম ফেনী জেলায়। আর আমি ঢাকায় আসি '৫৮ সালে। তখন আমি কেবল মেট্রিক পাশ করেছি।

ঢাকায় এসে কী করলেন? মানে কোথায় ভর্তি হলেন?
ড. ইনামুল হক : নটর ডেম কলেজে।

আমাদের দেশের অনেক বিখ্যাত মানুষ নটর ডেম কলেজে পড়েছেন। জানতে চাই, আপনার সহপাঠী কারা ছিলেন?
ড. ইনামুল হক : হায়দার আকবর খান রনো, রাশেদ খান মেনন-এরা আমার সঙ্গে কলেজে পড়ত।

তখন তো তারা আর রাজনীতি করতেন না...।
ড. ইনামুল হক : না। তবে আমরা সবাই প্রোগ্রেসিভ চিন্তা করতাম।

তারপর আপনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেন। তাই না?
ড. ইনামুল হক : আমি এরপর ফজলুল হক হলে উঠলাম। আর ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে। এখানে আমি ছিলাম কালচারাল সেক্রেটারি। আর আবদুর রাজ্জাক ছিল প্রেসিডেন্ট। তখন পলিটিক্যাল সায়েন্সে পড়তো আবদুল জলিল। সেও আমাদের সঙ্গে নানা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে জড়িত ছিল।

এখান থেকেই কি আপনার নাটকের প্রতি আগ্রহ?
ড. ইনামুল হক : হ্যাঁ, হলে ডাকসুর নাটক করে বেড়াতাম। ফলে এখান থেকেই যে নাটকের জগতে জড়িয়ে পড়ি সেটা বলা যায়।

তখন তো মানে ষাটের দশকে আপনারা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন, তখন নানা ঘটনা ঘটেছিল আমরা জানি...।
ড. ইনামুল হক : মোনায়েম খাঁ তখন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর। যুদ্ধের পর (ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ, যেখানে ইষ্ট বেঙ্গল দারুণ কৃতিত্ব দেখিয়েছিল) তিনি এখানে রবীন্দ্রনাথকে নিষিদ্ধ করে দেন। এর প্রতিবাদে আমরা নাটক করি 'রক্তকরবী', 'তাসের দেশ'। এই রক্তকরবীতে অভিনয় সহ নানা কাজকর্মে যুক্ত ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার, শহীদুল্লাহ কায়সার, গোলাম মোস্তফা, আলতাফ মাহমুদ, মতিউর রহমান, আবুল হায়াত, মফিদুল হক-এরা সবাই। আসলে এই প্রতিবাদ সংগ্রামই আমাদের একত্র করেছিল। আর আমরা একসাথে এই জাতির জন্য একটা সাংস্কৃতিক লড়াইয়ে নেমে গিয়েছিলাম।

আপনার এই সংগ্রামে অংশগ্রহণ কিভাবে?
ড. ইনামুল হক : আমি তখন নতুন শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছি বুয়েটে। প্রভাষক হিসেবে বাসাও পেয়েছি ১৪/১ এন-এর টিচার্স কোয়ার্টারে। ফলে সেখানেই নানা কাজকর্ম চলতো সাংস্কৃতিক কর্মীদের। খান আতা, মাসুদ আলী খান, হাসান ইমাম-এরা সবাই এখানে আসতেন। আর আমরা নানাভাবে চিন্তা করতাম কীভাবে দেশের জন্য কাজ করা যায়। আর এভাবেই আমরা কৃষ্ণকান্তের উইল, ম্যাক্সিম গোর্কির মা-এসব ভালো ভালো নাটক মঞ্চস্থ করেছি। আমাদের সঙ্গে তখন কাজ করতেন শুভ রহমান, মোজাম্মেল হোসেন, আবুল হাসনাত-এরা।

আচ্ছা, টেলিভিশনে আপনার প্রথম নাটক কোনটি? আমরা জানি আপনি অনেক নাটক লিখেছেন টিভির জন্য।
ড. ইনামুল হক : আমি প্রায় ৬০ কী ৭০টা নাটক লিখেছি। আমার টিভিতে প্রথম নাটক 'অনেক দিনের একদিন'। এই নাটকের প্রযোজক আবদুল্লাহ আল মামুন। এই নাটকের পর আমি আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাটক লিখি 'আবার আসিব ফিরে'। এই নাটকের মাধ্যমে আন্ডারগ্রাউন্ডে আন্দোলন দানা বেঁধে উঠছে- এমন একটি মেসেজ দেয়া হয়। নাটকটি '৭১ নালের ২৩ মার্চ বিটিভিতে প্রচারিত হয়। আমার আরেকটি নাটক 'এক মালা শত মালঞ্চ' একুশে ফেব্রুয়ারিকে নিয়ে এদেশের প্রথম নাটক হিসেবে বিটিভিতে প্রচারিত হয়। এই নাটকের প্রযোজকও আবদুল্লাহ আল মামুন। আমার আরেকটি উল্লেখযোগ্য নাটক 'গৃহবাস'। আর 'কে বা আপন কে বা পর' প্রচারিত হয় ৯১ কী ৯২ সালে। এই নাটকের মাধ্যমেই শমী কায়সারের টেলিভিশনে যাত্রা শুরু হয়। আরেকটি নাটকের কথা আমি বলতে চাই, 'সন্ধিক্ষণে আমরা'। এই নাটকটি তৎকালীন জোট সরকারের মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

টেলিভিশন বাদে আপনার আরো কাজের খবর জানতে চাই।
ড. ইনামুল হক : আমি বিজ্ঞানের ওপর ৬ মাসের একটি অনুষ্ঠান করেছি বিটিভিতে। রেডিওতে শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান করেছি-আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রামে, বয়স্ক শিক্ষা আর পরিবার পরিকল্পনার ওপরে।

রেডিও, টিভির মধ্যে কোন পার্থক্যটা আপনার কাছে বড়ো মনে হয়?
ড. ইনামুল হক : টিভিতে দর্শকের কথা মনে রেখে, অভিনয়টা দেখাতে হয়। এখানে ক্যামেরার মনিটরটাই আসল। সেখানে তোমাকে কেমন লাগছে, পরিচালক কী বলছেন সেটা মাথায় রাখতে হয়। আর রেডিওতে শুধু শব্দের খেলা। প্লেন উড়ে যাচ্ছে, ঝড় আসছে-এই সমস্ত বিষয় শুধু কন্ঠের খেলা আর ডায়লগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করতে হয়। ফলে রেডিওতে কাজ করার মজাটাই অন্য রকমের। আর আমি যেহেতু মঞ্চেও কাজ করেছি, ফলে এটার কথাও বলতে পারি। মঞ্চে দর্শকের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ঘটে। এখানে ইন্টারেকশনটা সরাসরি। কোয়ালিটি এখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়। এখানে প্রচুর শারিরীক সক্ষমতার বিষয় জড়িত। আর আমি নিঃসন্দেহ যে, মঞ্চ কখনো বিলুপ্ত হবে না।

আপনার মঞ্চের ব্যাকগ্রাউন্ডটা বলুন।
ড. ইনামুল হক : আমরা মঞ্চ নাটক করছি সেই '৬৪ সাল থেকে। নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়ের জন্ম '৬৮ সালে। আমি, আবুল হায়াত, আতাউর রহমান, জিয়া হায়দার, গোলাম রাব্বানী-এরা ছিলাম এই দলের প্রথম দিকের সদস্য। আমাদের প্রথম নাটক 'ইডিপাস'। আর 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' নাটকে এদেশের প্রথম মহিলা শিল্পী হিসেবে অভিনয় করে। এখানে অতিথি শিল্পী হিসেবে অভিনয় করেছিলেন আলী যাকের।

লাকী ইনামের সঙ্গে কি আপনার নাটকের মাধ্যমে যোগাযোগ?
ড. ইনামুল হক : না, পারিবারিকভাবেই আমাদের বিয়ে হয়েছিল। আমাদের বিয়ে হয়েছিল কুমিল্লাতে। তখন লাকী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে ইন্টারমিডিয়েটে পড়তো। লাকী কিন্তু মেট্রিকে স্ট্যান্ড করেছিল। ও ছিল কুমিল্লা বিভাগে থার্ড। আর পরে সে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এমএ পাশ করে। সে ডজনখানেক নাটকের রচয়িতা। আমার আর লাকীর সংসারে দুই মেয়ে। হৃদি হক (স্বামী লিটু আনাম) আর প্রৈতি হক (স্বামী সাজু খাদেম)। প্রৈতির নামটি দিয়েছিলেন ওয়াহিদুল হক।

ওয়াহিদুল হক সম্পর্কে একটু বলুন।
ড. ইনামুল হক : ওয়াহিদ ভাই ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ। তার নাচ সম্পর্কে অবিশ্বাস্য জ্ঞান ছিল, রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তো তিনি যে কোনো বাংলাদেশীর চেয়ে বেশি জানেন। তার লেখার ভাষা, চিন্তা-চেতনা যে কোনো আধুনিক মানুষের চেয়েও বেশি ছিল।

আচ্ছা বলুন তো আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ অত্যন্ত কম। এটা কেন? তারা যদি বেশি বেশি এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন তাহলে তো শিক্ষার পরিবেশ আরো বেশি ভালো হবে, তাই না?
ড. ইনামুল হক : এটা খুবই দুঃখজনক যে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দিনে দিনে আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাচ্ছেন। তারা নিজেরা কোনো সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করেন না। ফলে ছাত্রদেরও উৎসাহিত করতে পারেন না। এর ফলে একদিকে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে, তেমনি শিক্ষার পরিবেশও সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। নিজেদের সামনে কোনো আইডল তারা পাচ্ছে না। আর শিক্ষার পরিবেশও হারিয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। যেমন ধরো-যদি সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বা ড. আনিসুজ্জামানের মতো মানুষরা মঞ্চ নাটক দেখতে যান, তাহলে আমরা নাটকের অভিনয় করতে আরো ভালোবাসবো। আর ছাত্রছাত্রীরাও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ নিতে উদ্বুদ্ধ হবে স্যারদের দেখে দেখে। আমরা অভিনয়ে এসেছিলাম তো মনির চৌধুরীদের দেখে দেখে। খোঁজ নিয়ে দেখ, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শতাংশ শিক্ষকও কোনো কালচারাল একটিভিটির সঙ্গে জড়িত না। তারা ভাবে এসব করলে নিজের ক্ষতি।

কালচারাল সেক্টরেরও অবস্থা তো আগের মতো নেই...।
ড. ইনামুল হক : হ্যাঁ সব জায়গাতেই চলছে আত্মীয়করণ। এ ওর আত্মীয়-বন্ধু, সে তার কাছের মানুষ এদের ঢুকাচ্ছে। একদমই উল্টো স্রোতে চলছে আমাদের এই সেক্টর।

মঞ্চ নাটকের এই দৈন্যদশা কেন?
ড. ইনামুল হক : আসলে সরকার উদ্যোগী না। সরকার উদ্যোগ না নিলে এসব কাজ চালানো মুশকিল। তাছাড়া আগে যে এনভারনমেন্টে নাটক করতাম এখন তো সেটা একদমই পাই না। মফস্বলে আগে অনেক ধরণের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। এখন তো জায়গাই পাওয়া যাচ্ছে না। আর সরকার বলে,- থাক বাবা থাক, কী হবে নাটক-ফাটক করে। আর মৌলবাদীরা বলে এটাকে বন্ধ কর। এর ফলে তো সবখানেই মৌলবাদ বেড়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতি চর্চার অভাবই মৌলবাদ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

আচ্ছা আপনি তো প্রচুর স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। স্ক্রিপ্ট সংকট কেন বলুন তো?
ড. ইনামুল হক : এখন সবকিছুতেই মোবাইল বিনোদন ঢুকে গেছে। একারণেই এ সংকট দেখা দিয়েছে। কেউ ভাবছে না। ফলে ভালো স্ক্রিপ্ট তো বেরুবে না। গল্পে কোনো যৌক্তিকতা নেই, কোনো ঘটনার কোনো কার্যকারণ নেই। কিছু ফানি ফানি জিনিশ দিতে পারলেই কি নাটক হয়ে যায়? অদ্ভুত!

ভালো স্ক্রিপ্ট লেখার কৌশল কী?
ড. ইনামুল হক : যে কথা সচরাচর বলছি সেটার মাধ্যমে নাটকের অর্ন্তনিহিত মেসেজ নাটকে তুলে ধরতে হবে। জীবনবোধ থাকতে হবে। সংলাপে ভালো করতে হবে। পারিপার্শ্বিকতার কথা মনে রখতে হবে। গল্পের ওপর জোর দিতে হবে। আমাদের চারপাশে তো বিষয়ের কোনো অভাব নেই। স্ক্রিপ্টের দূর্বলতার কারণে পারফরমেন্স খারাপ হয়।

শিখে অভিনয়ে আসাটা কতোটা জরুরী?
ড. ইনামুল হক : প্রশিক্ষিত হয়ে এলে অভিনয় ভালো হয়। অভিনয়ে পারমঙ্গতা তৈরি হয়, টেকনিক ডেভেলপ করে।

অভিনয় থেকে অবসর নেবেন কবে? শিক্ষকতা থেকে তো অবসর নিয়েছেন।
ড. ইনামুল হক : যতোদিন শরীর কুলায় (একথা বলে হাসতে থাকেন তিনি)।


সুত্র - গ্লিটস/২২ নভেম্বর ২০০৮

Morshedul Islam

ডিজিটাল ফরম্যাটে ছবি হবে স্বাধীন: মোরশেদুল ইসলাম

MorsedulIslam12

ডিজিটাল চলচ্চিত্র নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন এদেশের তরুণ নির্মাতারা। তাদের পাশে আছেন মূলধারা এবং বিকল্প ধারার বেশ কিছু নির্মাতাও। এই আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত খ্যাতিমান নির্মাতা মোরশেদুল ইসলাম এবার মুখোমুখি হয়েছেন গ্লিটজের। তার সঙ্গে কথা বলেছেন ওমর শাহেদ।

প্রথমেই জানতে চাই, চলচ্চিত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার কিভাবে ঘটেছে এবং কী ধরণের প্রভাব রেখেছে?

মোরশেদুল ইসলামঃ চলচ্চিত্র ইতিহাসের শুরু থেকে প্রযুক্তি সবসময় চলচ্চিত্রকে ডমিনেট করেছে। প্রযুক্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছবির ধরণও পাল্টে গেছে ইতিহাসের শুরু থেকে। একদম প্রথম দিকে সাইলেন্ট বা নির্বাক ছবি বানানো হতো। দীর্ঘদিন এই ধরণের ছবি রাজত্ব করেছে। তারপর এলো সাদাকালো ছবি। একসময় সাদাকালো ছবিও বদলে রঙিন হয়ে গেলো। এই যে পরিবর্তন এখানে কিন্তু ছবির সমালোচক এবং দর্শকদের মধ্যে ছবির ধরণে পরিবর্তনের ফলে কোনো ধরণের সমস্যা হয় কী না এবং চলচ্চিত্র তার নিজস্বতা হারায় কি না- এই দ্বিধাদ্বন্ধ ছিল। যেমন নির্বাক যুগের পরে শব্দ আসার ফলে ছবি কি স্বকীয়তা হারাবে- এই ভয় এবং এক ধরনের কৌতুহলও ছিল চলচ্চিত্রামোদীদের। তবে মজার ব্যাপার হলো, শব্দ ছবির কোনো ধরনের ক্ষতি তো করেই নি, বরং আরো সমৃদ্ধ করেছে এবং ছবিতে আলাদা দ্যোতনা নিয়ে এসেছে। এ কথাটা এজন্যই বলা যে, আসলে কোনো প্রযুক্তিই চলচ্চিত্র শিল্পকে ব্যহত করেনি বরং সমৃদ্ধ করেছে। এই প্রেক্ষিত বিবেচনা করলে ডিজিটাল ছবিও আমাদের এই সম্ভাবনার সামনে নিয়ে এসেছে যাতে সত্যিকার অর্থে চলচ্চিত্র শিল্পই সমৃদ্ধ হবে।

ডিজিটাল ছবির যাত্রা কিভাবে শুরু হয়?

মোরশেদুল ইসলামঃ '৮০'র দশক থেকে ডিজিটাল ছবির যাত্রা শুরু হয়। তখন প্রথমে অ্যানালগ সিস্টেমে ছবি বানানো হতো। তারপর তাকে ভিডিওতে ট্রান্সফার করা হতো। আর এখান থেকেই দেশে দেশে ডিজিটালি ছবি বানাতে শুরু করেন নির্মাতারা। এটার এখন বিশাল বাজারও গড়ে উঠেছে। ডিজিটাল ছবি নিয়ে নানা ফেস্টিভ্যালও হচ্ছে বিভিন্ন জায়গায়।

ডিজিটাল ফরমেটের সুবিধা কী?

মোরশেদুল ইসলামঃ ডিজিটাল ফরমেটে ছবি বানানোর সুবিধা অনেক। প্রথম এবং প্রধান সুবিধা হলো- এই মাধ্যমে খরচ অনেক কম। ফলে অনেকের পক্ষে নানা ধরণের ছবি বানানো সম্ভব। কারণ বাজেট অল্প। যদিও অনেকেরই একসময় ধারণা ছিল, বিশাল পুঁজি, বিশাল সেট, অনেক লাইট অ্যারেঞ্জমেন্ট না হলে সেটা সিনেমা হয় না।

কারা এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেছেন?

মোরশেদুল ইসলামঃ যারা শৈল্পিক ছবি বানাতে চান, ভিন্ন ধরণের, নিজের ভেতরের তাড়না থেকে ছবি বানাতে চান তারা এই নতুন প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে ছবি বানাচ্ছেন। এমনকি হলিউডের মতো বড় জায়গার পাশে থেকেও অনেক মার্কিন চলচ্চিত্রকার এই ধরণের ছবি বানাচ্ছেন।

কেন আপনারা এই ছবির পক্ষে আন্দোলন করছেন?

মোরশেদুল ইসলামঃ জ্যাঁ কঁকতো'র একটা কথা আছে, "যতোদিন ক্যামেরার দাম কলমের দামের সমান না হবে এবং ফিল্মের দাম কাগজের দামের সমান না হবে ততদিন সবার জন্য ছবি হবে না।"

আমরা চলচ্চিত্রকে সবার জন্য ফ্রি করতে চাই। ফলে ছবি হবে স্বাধীন। ছবি হবে সৃজনশীল এবং সবার জন্য উন্মুক্ত হয়ে যাবে ছবির বাজার। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখেই গত শতকের আশি'র দশকের শুরুতে আমরা মূল ধারা থেকে আলাদা ধরণের চলচ্চিত্র আন্দোলন শুরু করেছিলাম। পরে এটি 'স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র আন্দোলন' নামে পরিচিত হয়। এজন্য আমরা বেছে নিয়েছিলাম ১৬ মিলিমিটার ক্যামেরা। এজন্য কাহিনীকে প্রাণবন্ত করতে আমরা স্টুডিও শুটিংয়ের বদলে লোকেশন শুটিং করেছি। ১৬ মিলিমিটারের ছবির ফিল্ম, যন্ত্রপাতি সহজে বহনযোগ্য। আর এই ধরণের ছবি যারা বানাবেন তারা বেশ সহজেই ছবি বানাতে পারেন। আর এই ক্ষেত্রে আরেকটা সুবিধা হলো, এখানে হল মালিক নির্ভরতা নেই।

আমাদের দেশের ফিল্ম ক্যামেরার (৩৫ মিলিমিটার) অসুবিধাগুলো কী কী? এক্ষেত্রে ডিজিটাল ক্যামেরার সুবিধা কী?

মোরশেদুল ইসলামঃ আমাদের দেশের প্রচলিত ফিল্ম ক্যামেরার সমস্যা অনেক। যে ছবি তুলব সেটার প্রপার লাইট কন্ডিশন কেমন, ল্যাবে ঠিকমতো প্রসেস হচ্ছে কী না- এসব সমস্যা খুব ভোগান্তির মধ্যে ফেলে। অন্যদিকে ডিজিটাল ক্যামেরায় ঠিকমতো লাইট সেট হলো কী না সেটা মনিটরে দেখে নেবার সুবিধা আছে। সহজে ক্যামেরা তুলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় বহন করা যায়। একটা শট তিনবারের বেশি এনজি হলে (নষ্ট হলে) ফিল্মে যারা কাজ করেন তারা শংকিত হয়ে পড়েন। এই অসুবিধাটা ডিজিটাল ফরমেটে নেই।

কারিগরি মানের দিক থেকে বিবেচনা করলে আমাদের দেশের যে ফিল্ম ক্যামেরা (৩৫ মিলিমিটার) তার প্রপার লেন্স নেই। আর এই ফিল্ম আনতে এফডিসির দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। আমাদের হাতে এফডিসি বাদে অন্য কোনো চয়েসও নেই। আর এই লেন্সগুলো কখনো কখনো থাকে অত্যন্ত পুরনো। এফডিসির ল্যাবের কোয়ালিটিও জঘণ্য। ফলে যে ছবিগুলো এখানে করা হয় সেগুলোর বেশিরভাগই আসলে খুব ভালো হয় না। তবে একজন নির্মাতা হিসেবে আমি স্বীকার করছি, ৩৫ মিলিমিটারে যদি প্রপার কন্ডিশনে ছবি বানানো যায়, তাহলে সেটা হবে সবচেয়ে ভালো মানের ছবি। কিন্তু এটা এদেশে করা খুব কঠিন।

ছবিঘরের অবস্থা তো অত্যন্ত খারাপ।

Morshedul_Islam মোরশেদুল ইসলামঃ এফডিসিতে বানানো ছবিগুলো যেসব হলে দেখানো হয়, সেগুলোর অবস্থা জঘন্য। মফস্বলের বেশিরভাগ হলেই প্রজেকশন কোয়ালিটি অত্যন্ত নিম্নমানের। শব্দ শোনা যায় না, লাইট সিস্টেম ভালো না। আর পরিবেশও এতো খারাপ যে, দর্শক দিনে দিনে হলে গিয়ে ছবি দেখা বন্ধ করে দিচ্ছেন। তারা ঝুঁকে পড়ছেন বাসায় বসে সিনেমা দেখার প্রতি। এক্ষেত্রে বলাবাহুল্য, ডিভিডিতে ডিজিটাল ছবি খুব সহজেই ট্রান্সফার করে এই শ্রেণীর দর্শকদের হলে এনে ছবি দেখিয়ে অনেক টাকা উপার্জনের সুযোগও আছে।

যদিও আমরা জানি, বাণিজ্যিক ছবির ধারা অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সর্বগ্রাসী। তারপরও আমরা চাই বাণিজ্যিক ছবির পাশাপাশি একটি শক্তিশালী ধারা থাকুক যেখানে প্রযোজকের টাকা ফেরৎ দেবার প্রবল চাপ থাকবে না। থাকবে না নিজের মনের সাথে যুদ্ধ করার অন্যায় এবং অমানবিক চেষ্টা। ফলে আমাদের কাছে এই নতুন মাধ্যমের গুরুত্ব অনেক।

সরকার এই আন্দোলনকে কিভাবে দেখছেন?

মোরশেদুল ইসলামঃ সবাই জানেন, আমরা ডিজিটাল ছবির জন্য চেষ্টা করছি। সরকারকে বলছি যাতে এই ছবিগুলো হলে দেখানো যায়। সেন্সরের অনুমতি দিয়ে ছবিগুলো সারাদেশে হলে হলে দেখানো উচিত। সরকার নীতিগতভাবে আমাদের দাবী মেনে নিয়েছেন বলে আমার মনে হয়েছে। যদিও আমরা সেন্সর প্রথার বিরুদ্ধে। কারণ এটা শিল্পীর স্বাধীনতাকে ক্ষুন্ন করে। একজন লেখকের যদি বই লেখার জন্য কারো অনুমতি না নিতে হয়, তাহলে কেন একজন নির্মাতাকে তার ছবির জন্য অনুমতি নিতে হবে। আর এটাও বলছি না যে আমরা অতিবিপ্ল্লবী। আমরা জানি যে, এদেশের যে সামাজিক অবস্থা সেখানে চাইলেই যে কারো যে কোনো ধরণের ছবি এখানে দেখানো যাবে না। ফলে এই বিষয়ে আমাদের কথা বলার সময় আসতে আরো সময় লাগবে।

এফডিসির ছবি নিমার্তারা এই আন্দোলকে কিভাবে দেখছেন?

মোরশেদুল ইসলামঃ সমস্যা হচ্ছে আমাদের মধ্যে নতুনকে বরণ করার প্রবণতা অত্যন্ত কম। আমরা ভয় পাই। আমি দেখছি, আমাদের অনেকেই এই নতুন ফরম্যাট নিয়ে অনেক ভীতির মধ্যে আছেন। তাদের মধ্যে অনীহা দেখা যাচ্ছে। আসলে এরা চলচ্চিত্রে অশিক্ষিত। ফলে ভয় পাচ্ছেন। এরা প্রযুক্তির ব্যবহার জানেন না। জানেন না কীভাবে পরিবেশটাকে বদলে দিতে পারে ডিজিটাল ছবি। এদের বোঝাতে সময় লাগবে।

নতুন ফরম্যাট আমাদের প্রচলিত ছবির জগতকে কিভাবে বদলে দেবে বলে আপনার ধারণা?

মোরশেদুল ইসলামঃ ৩৫ মিলিমিটারের চেয়ে তিনভাগের একভাগ টাকায় এই ফরম্যাটে ছবি বানানো সম্ভব। ফলে অনেকেই ছবি বানাতে পারবেন। এই টাকা তুলে আনা সম্ভব। আমি আমার কথা বলতে পারি, আমি এখন বছরে ১টা ছবি বানাই। তবে ডিজিটালে ছবি বানাতে পারলে আমি বছরে ২টা ছবি বানাতে পারবো। যে সব তরুণ ছেলেমেয়েরা ছবি না বানাতে পেরে টিভি নাটক বানাচ্ছে, তারা ছবি বানাতে পারবে। তারা তাদের স্বপ্নপূরণ করতে পারবে। ফলে সৃজনশীল ছবির ধারায় একটা অত্যন্ত বড় পরিবর্তন আসবে।

সরকারের কোনো করণীয় আছে?

মোরশেদুল ইসলামঃ সমস্যা হলো, সরকার ৩৫ মিলিমিটারের ক্যামেরার কাজকেই ছবি হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে। তাদের এখন এই নিয়মকে আপডেট করতে হবে। এই কথার যুক্তি হলো, যখন এই নিয়ম বানানো হয়েছিল, তখন ৩৫ মিলিমিটার ছাড়া আর কোনো ফরম্যাট ছিল না। কিন্তু এখন সময় বদলেছে। ফলে আইনকেও সময়ের দাবী মেনে নিতে হবে। হতে হবে যুগপোযোগী।

ডিজিটাল ছবি তো হলে তেমনভাবে দেখানো যাবে না...

মোরশেদুল ইসলামঃ হ্যা, আমাদের কোনো হলেই ডিজিটাল ছবি প্রোজেকশন সিস্টেম নেই। একমাত্র স্টার সিনেপ্লেক্সে এই ছবিগুলো দেখানো যায়। সেক্ষেত্রে সারা দেশের হলগুলোকে ডিজিটালাইজড করতে হবে। এজন্য খরচ হবে মাত্র ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা। এটা হলমালিকরা করবেন। তারা যখন দেখবেন, অনেক ডিজিটাল ছবি হচ্ছে, তার টাকা ফেরৎ আসছে, তখন তারা নিজের তাগিদেই সেটা করবেন।

অনেকে বলছেন ডিজিটাল ছবি এবং টিভি নাটকের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য নেই?

মোরশেদুল ইসলামঃ ভিডিওতে আমরা যেসব নাটক দেখেছি সেগুলো ডিজিটাল ক্যামেরায় করা। দেখেছি টেলিফিল্মও। ফলে প্রশ্নটা উঠেছে- টিভি নাটকের সঙ্গে আসলে এর পার্থক্য কোথায়? আর আমরা মনে করি, ৩৫-এ শুট করলে সেটা ছবি আর ডিজিটালে শুট করলে সেটা নাটক- এই প্রশ্নগুলোর উত্তর আসলেই খুব জরুরী।

চলচ্চিত্রের নিজস্ব ভাষা আছে। নন্দনতত্ব আছে। টেলিভিশনকে টার্গেট করে যেটা বানানো হয় সেটা টিভি প্লে। ছোট পর্দার ব্যাকরণ মেনে, দর্শককে ধরে রাখার কথা মনে রেখে যেটা বানানো হয় সেটাই টিভি প্লে। কারণ দর্শক টিভি দেখেন হালকা মেজাজে। তারা টিভি দেখতে দেখতে গল্প করেন। কখনো টিভি দেখতে দেখতে ভালো না লাগলে উঠে যান। এসব সীমাবদ্ধতা মাথায় রেখে হালকা চালে যেসব অনুষ্ঠান তৈরি হয় সেগুলো টিভি নাটক। এটা যেকোনো ক্যামেরায় করা হোক না কেন।

অন্যদিকে সিনেমা সিরিয়াস মাধ্যম। এখানে দর্শক হলে ঢোকার আগে টিকেট কাটেন। তার মধ্যে এক ধরণের দ্বায়িত্ববোধ জন্ম নেয় যে, আমি ছবি দেখতে হলে ঢুকছি। সময় নিয়ে, অন্ধকার ঘরে বসে তিনি সবার সঙ্গে বসে ছবি দেখেন। যার চরিত্র এবং ঘটনাগুলোর সঙ্গে তিনি একাত্মবোধ করেন। ছবিতে সময় নিয়ে ধরে ধরে চরিত্রগুলোকে বিস্তৃত করা যায়। ঘটনার বিস্তার করা যায়। এটা দেখার মধ্যে এক ধরণের অভ্যস্ততার ব্যাপার আছে। ছবিটা কোন ফরম্যাটে তৈরি করা হয়েছে সেটা বিচার্য বিষয় নয়।

যেহেতু ছবি বানানো সহজ হয়ে যাবে, ফলে সবাই কি ছবি বানাবেন?

মোরশেদুল ইসলামঃ আমি মনে করি, ডিজিটাল ছবির মাধ্যমে আমাদের ছবি বানানোর পথ খুলে যাবে। যে কেউ এর ফলে ছবি বানাতে পারবেন। তবে ভালো ছবি বানানোটা মোটেও সহজ হয়ে যাবে না। সত্যিকারের ছবি বানাতে প্রস্তুতি দরকার। যার দক্ষতা নেই, প্রস্তুতি নেই, ছবির জন্য ভালোবাসা নেই সে কোনোভাবেই ভালো ছবি বানাতে পারবে না। তার ছবি দর্শকও পছন্দ করবেন না।

ছবির বাজার তো বিস্তৃত হচ্ছে দিনে দিনে। আন্তর্জাতিক বাজারে আমরা ডিজিটাল ছবি নিয়ে প্রবেশ করতে পারবো?

মোরশেদুল ইসলামঃ এখন আমরা বছরে ৩৫ মিলিমিটারে ৩ থেকে ৪টা ছবি বানাতে পারি যেগুলো ভালোমানের হয়। আর ডিজিটাল ফরম্যাটে ছবি বানানোর সুযোগ পেলে বছরে হয়তো ২০ থেকে ২৫ টা ছবি বানাতে পারবো। এসব ছবি আমাদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করাতে পারবে। এখন আমাদের 'মাটির ময়না'র মতো মাত্র ১ কী দুটো ভালো ছবি আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। বিভিন্ন ফিল্ম ফেস্টিভালেও তখন আমাদের অনেক বেশি অংশগ্রহণ ঘটবে। এর ফলে আমাদের ছবির বাজারও বিস্তৃত হবে। যেটা দেশের মুখ আরো উজ্জ্বল করবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমরা যারা মনের তাগিদে ছবি বানাই, তারা দেশের মানুষকে আমাদের ছবিগুলো দেখাতে পারি না। একটা কী দুইটা হলে ছবি দেখিয়েই আমাদের তৃপ্ত থাকতে হয়। অথচ ভালো ছবির দর্শক আমাদের দেশে কিন্তু মোটেও কম নেই। প্রতিটি জেলায় অন্ততঃ কয়েক হাজার ছেলেমেয়ে আছে, উৎসাহী দর্শক আছেন যারা এসব ছবি দেখতে মুখিয়ে থাকেন। এসব মানুষের ছবি দেখার যে ক্ষিদে সেটা মেটানোর অন্য কোনো রাস্তা আছে বলে আমার জানা নেই।

বর্তমান প্রেক্ষিতে ডিজিটাল ছবি দেখানোর উপায় কী?

মোরশেদুল ইসলামঃ জেলায় জেলায় প্রচুর পরিমাণ ব্যবহার না হওয়া অডিটোরিয়াম আছে। যেগুলোতে চাইলেই খুব সহজেই এসব ছবি প্রদর্শন করা যাবে।

সুত্র - গ্লিটস/১২ নভেম্বর ২০০৮

Zakia Bari Momo

খুশিতে টানা দুইরাত ঘুমাতে পারিনি: জাকিয়া বারী মম

Momo27গেল বছরের 'শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী' হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার লাভ মম'র কেরিয়ারে যোগ করেছে নতুন পালক। তার সঙ্গে নানা প্রসঙ্গে কথোপকথনে মীর সামী।

'দারুচিনি দ্বীপ' ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার পেলেন। কেমন লাগছে?

মম : পুরস্কার পেলে তো সবারই ভালো লাগে। আমারও দারুণ লাগছে। আমি যারপরনাই খুশি। চলচ্চিত্র জুরি বোর্ডের কাছে আমি অনেক কৃতজ্ঞ। যে কোনো পুরস্কারই ভালো কাজের একটা প্রেরণা জাগায়। এবারের চলচ্চিত্র পুরস্কার আমার জন্য অনেক বেশি আনন্দের। দারুচিনি দ্বীপ ছবিতে আমি 'জরি' নামের এক সহজ, সরল এক মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি। এই ছবিটি তৈরি করা হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস 'দারুচিনি দ্বীপ' অবলম্বনে। এটি পরিচালনা করেছেন তৌকির আহমেদ। এ ছবির মাধ্যমে আমি চলচ্চিত্রে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি। আমি মনে করি, এবারের এই পুরস্কারটি আমাকে কাজের প্রতি আরো বেশি মনোযোগী করে তুলবে। এই পুরস্কার আমার চলার পথের পাথেয় হিসেবে থাকবে।

যেদিন পুরস্কারটি ঘোষণা করা হয়েছিল সেদিনের অনুভূতি কেমন ছিল?

মম : প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, আমি সেরা নায়িকা হয়েছি। তারপরে মনে মনে আমি অনেক ধন্যবাদ দিয়েছি ছবির সব কলা-কুশলীদের। এরপর আমি প্রথমে ফোন করি তৌকির ভাইকে। তিনি ফোন ধরার সঙ্গে সঙ্গে আমাকে শুভেচ্ছা জানান। তখন আমার বিশ্বাস হয়েছে যে, আমি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাচ্ছি। এরপর টানা দুইরাত ঘুমাতে পারিনি। এই পুরস্কার পেয়ে আমি সত্যিই অনেক বেশি খুশি হয়েছি। আর ধন্যবাদ জানাতে চাই এই ছবির সকল কলা-কুশলীদের এবং আমার দর্শক, যারা আমার ছবিটি দেখেছেন। আমি মনে করি, একজন অভিনেত্রী হিসেবে এই দেশ আমাকে যে সম্মান করলো, সেটা আমার কাছে অনেক বেশি মর্যাদার। আমি তাদের এই সম্মান ধরে রাখার এবং তাদের প্রত্যাশা পুরণ করার চেষ্টা করবো।

প্রথম ছবিতেই এতো বড় সাফল্য পেলেন। এরপরেও আর নতুন কোনো ছবিতে আপনাকে দেখা যাচ্ছে না কেন?

মম : আমি মনে করি ছবিতে অভিনয় এবং নাটকে অভিনয় দুটো পুরোপুরি আলাদা বিষয়। দারুচিনি দ্বীপে অভিনয় করার পর অনেক ছবিতে অফার পেয়েছি। আমি আসলে ভালো মানের ছবিতে অভিনয় করতে চাই। ভালো কোন পরিচালক এবং ভালো চরিত্রের দেখা পেলে আবারো ছবিতে অভিনয় করবো।

তার মানে আপনি বিকল্প ধারার কথা বলছেন?

মম : আসলে আমাদের ছবিতে মূল ধারা বা বিকল্প ধারা বলতে কোন কিছু নেই। সব ছবিই আমার কাছে মনে হয় ছবি।

চলচ্চিত্রে কিভাবে এলেন?

মম : আমি চলচ্চিত্রের নায়িকা হব এমন কোন ভাবনা আমার কোন কালেই ছিল না। আমি যখন লাক্স সুপারষ্টার হই তখন লাক্সের সাথে আমার একটা চুক্তি হয় ছবির নায়িকা হবার। এভাবেই আমি প্রথন ছবি দারুচিনি দ্বীপে অভিনয় করি।

আপনার শুরুর দিকটা?

মম : ছোটবেলা থেকেই আমার অভিনয়ের প্রতি দারুণ আগ্রহ ছিল। সবসময় আমি মনে মনে এই স্বপ্নকে লালন করতাম। পরে যখন মৌ আপুর (সাদিয়া ইসলাম মৌ) নাচের স্কুল নৃত্যলোকে ভর্তি হই, তখন একদিন কথায় কথায় আপুকে আমার অভিনয়ের আগ্রহের কথা বলে ফেলি। তিনি একদিন আমাকে বললেন, "তোর এতো অভিনয়ের আগ্রহ, তাহলে মিনহাজুর রহমান কাজী নজরুল ইসলামের একটি নাটক বানাবেন সেখানে তুই অভিনয় কর।" নাটকের নাম মেহেরনিগার। এই নাটকে আমি নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছি। এখানে আমার বিপরীতে অভিনয় করেছেন জাহিদ হাসান। তারপর থেকে নানা নাটকে অভিনয় করেছি। আমি প্রথম থেকে বলেছি যে, ভালো চরিত্রে কাজ করব। ফলে তখন থেকে আমি খুব বেশি নাটকে অভিনয় করিনি। বেছে বেছে কাজ করেছি।

আর লাক্সে আসা?

মম : লাক্স-এ আসব এমন কোন ভাবনা আমার ছিল না। আমার ছোট ভাই মনন একদিন বাবাকে বলল, "আপুর তো অভিনয় করার অনেক শখ। ওকে লাক্সে রেজিষ্ট্রেশন করতে বল।" এরপর বাবা রেজিষ্ট্রেশন করার কথা বলেন। আমি তার কথাকে কোন গুরুত্ব দেইনি। উল্টো তাকে বললাম, "আব্বা এসব লাক্স-ফাক্স করে কোনো লাভ হবে না।" এসব বলে টলে তো আমি চলে গেছি আমার ক্যাম্পাসে (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)। বাবা আবারও বললেন, "এখানে তোমার নাম লেখাও।" আসলে, আমি বাবার কথাতেই এই প্রতিযোগিতায় নাম লেখাই। যেদিন প্রতিযোগিতার জন্য দেখা করতে গিয়েছি সেদিন আমি আমার চেয়েও অনেক সুন্দর সুন্দর মেয়ে দেখেছি। ফলে আমি আবারও চলে আসতে চাই। কিন্তু এবারও বাধা দিলেন আমার আব্বা। কীভাবে কীভাবে আমি লাক্স-চ্যানেলআই সুপারষ্টার হলাম সে কাহিনী সবার জানা। যেহেতু লাক্সের সাথে আমার একটা চুক্তি ছিল 'দারুচিনি দ্বীপ' ছবির নায়িকা হবার ফলে আমি সেই ছবির নায়িকা হই।

আবার নাটকে নিয়মিত হলেন কবে?

মম : ছবির চুক্তি শেষ হয় '০৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এরপর থেকে আমি নিয়মিত নাটকে অভিনয় করছি।

এখন কী কী কাজ করছেন?

মম : এখন আমি বেশ কটি একপর্ব ও ধারাবাহিকের কাজ করছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- গোলাম সোহরাব দোদুলের 'সোয়া পাঁচ বাই আড়াই লেন', এজাজ মুন্নার 'নীড়', সাইফুল ইসলাম মান্নুর 'কারো কোন নীতি নেই', বাদল খন্দকারের 'শুভ্র', কৌশিক শংকর দাশের 'তোমার কথা আমার কথা', শেখ নজরুল ইসলামের 'বাঘারু', শাহ আমির খশরুর টেনিস খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি একটি নাটকে। বেশ কয়েকটি ঈদের নাটকেও অভিনয়ের কথা চলছে।

যদি লাক্সের মাধ্যমে নায়িকা না হতেন তবে আপনার জীবনের লক্ষ্য কী ছিল?

মম : ছোটবেলা থেকে 'পাইলট' হবার ইচ্ছেটা আমার খুব বেশি ছিল। তখন আমার মনের মধ্যে এক ধরনের ভাবনা কাজ করত। ভাবতাম, পাইলট হলেই বুঝি সবসময় আকাশে আকাশে পাখির মতো ঘুরে বেড়ানো যাবে। এরপর আস্তে আস্তে এই ইচ্ছোটা কমে যেতে থাকে। তারপর মনের মধ্যে ইচ্ছে জাগে আর্কিটেক্ট হবার। ধীরে ধীরে এটাও মরে যায়। তারপর আমি হতে চাই সংস্কৃতি কর্মী। যেই ভাবনা থেকেই আমি নাটক ও নাট্যকলায় ভর্তি হই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে।

এই যে নাটক ও নাট্যতত্ত্বে পড়ছেন, এটা কি আপনার অভিনয়ে কোন প্রভাব ফেলে?

মম : এই বিভাগে অনেক বিষয় আছে। যার মধ্যে একটি অভিনয়। তো একটু তো প্রভাব ফেলবেই। এটাই তো স্বাভাবিক।

একটি সৌন্দর্য সাবানের পর নতুন কোনো বিজ্ঞাপনের কাজ করছেন?

মম : না, আপাতত নতুন কোনো কাজ করছি না। তবে কথা চলছে।

নতুন কোন ছবিতে অভিনয় করছেন?

মম : না. এখনো ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হইনি।

অভিনয় নিয়ে আপনার লক্ষ্য?

মম : আমার লক্ষ্য খুবই সোজা। আর সেটা হলো নিজেকে একজন পরিপূর্ণ অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা।


সুত্র - গ্লিটস/৫ নভেম্বর ২০০৮

Mithila

আপত্তি নেই সিনেমার নায়িকা হতে: মিথিলা

Mithila22a পাশের বাড়ির মেয়ে মিথিলা, আমাদের টিভি বিজ্ঞাপন ও নাটকের মিষ্টি মুখ। অভিনয়ে নতুন তবে অপরিচিত নন মোটেও। আর তাহসানের স্ত্রী হিসেবেও তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। মিষ্টি এই মেয়েটির ব্যাপারে অনেক কিছুই জানার আগ্রহ রয়েছে ভক্ত দর্শকদের। এবারের সাক্ষাৎকার সেই আগ্রহ মেটাতেই হাজির করা হলো। তার সঙ্গে কথা বলেছেন মীর সামী।


আপনার ছোটবেলা কিভাবে কেটেছে?
ছোটবেলায় আমি খুব গম্ভীর টাইপের ছিলাম। প্রথমে গানের স্কুল 'হিন্দোল' একাডেমিতে ভর্তি হই। এরপর লোক নাট্যদলের শিশুদের দলে নাটক করি। পরে বেনুকা ললিতকলা একাডেমীতে নাচ শিখি।...

মিডিয়ায় এলেন কীভাবে?
বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। গান, নাচ এসব করতে করতেই একটি বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে ফেলি। বিজ্ঞাপনের পর অনেকেই বলতে থাকেন, "আরে তুমিতো অনেক সুন্দর কাজ করো।" সেই উৎসাহেই এই জগতে কেরিয়ার করা। এরপর জুঁই নারকেল তেলের একটি বিজ্ঞাপন করি। এখানে আমার সাথে তাহসানও অভিনয় করে। এই বিজ্ঞাপনটি আমাকে বেশ পরিচিতি দিয়েছে।

নাটকে শুরুটা?
ঈদের একটি নাটকে অভিনয় করার কথা বলেন পরিচালক রেদওয়ান রনি। অনেক ভেবেচিন্তে ওর প্রস্তাবে রাজি হই। আমার অভিনীত প্রথম নাটক 'শুনছেন একজন রেডিও জকির গল্প'। নাটকে আমার বিপরীতে অভিনয় করেন হাসান মাসুদ আর রুপক তালুকদার। এই নাটকে অভিনয় করার পর আমি অনেক নাটকে অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়েছি। নাটকে নিয়মিত হবো এমন কোন ইচ্ছা আমার ছিল না। আমি ভেবেছি যে, শুধু ঈদের জন্য তৈরি নাটকে অভিনয় করব। কিন্তু পরে শিহাব শাহীনের 'এক্স ফ্যাক্টর' নাটকে অভিনয় করি। এভাবেই আমার অভিনয়ে আসা। যখন দেখলাম অভিনয় করতে পারছি, আর দর্শক আমাকে গ্রহণ করছেন, তখন ভাবলাম হই না নাটকে নিয়মিত।

আপনার বেড়ে ওঠার যদি গল্প বলেন...।
আমার জন্ম গুলশানে। ২৫ মে তারিখে। আমার বাবা বজলুর রশীদ এবং মা শামসুর রশীদ। তিন বোন, এক ভাইয়ের মধ্যে আমিই সবার Mithila22fবড়। গুলশানে আমার দাদা বাড়ি। সেখানেই আমি বড় হয়েছি। এরপর বাবা চলে আসেন সিদ্ধেশ্বরীতে। এখানেই আমার শৈশব জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় দিনগুলো কেটেছে। আমার প্রথম স্কুল লিটলস জুয়েলস। এরপর ভর্তি হই ভিকারুননেসা স্কুল এন্ড কলেজে। এখানে ক্লাস ওয়ান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত পড়েছি। খুবই মজার ছিল স্কুল-কলেজের দিনগুলো।

এখন আপনার ব্যস্ততা কেমন?
ইফতেখার ফাহমী ও রেদওয়ান রনির 'হাউজফুল', ফারিয়া হোসেনের রচনা এবং আরিফ খানের পরিচালনায় 'জলকন্যা'র কাজ করছি। জলকন্যা'য় আমি দীঘি নামের একটি চরিত্রে অভিনয় করছি। একটা ত্রিভূজ প্রেমের গল্প নিয়ে নাটকটি তৈরি হচ্ছে। এছাড়াও কোরবানী ঈদের কয়েকটি নাটকে অভিনয়ের কথাবার্তা চলছে।

আপনার প্রথম ধারাবাহিক 'হাউজফুল' প্রচারিত হচ্ছে। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
এই নাটকের জন্য অনেক রেসপন্স পাচ্ছি। নাটকটি যেদিন প্রচার হয় সেদিন অনেকে আমাকে ফোন করে তাদের মতামত জানান।

ছোটবেলায় থিয়েটার করতেন। এখন করছেন না কেন?
ছোটবেলায় লোক নাট্যদলের শিশুদের দলের সদস্য ছিলাম। সেখানে একটি নাটকেও অভিনয় করেছি। এখন আসলে সময়ের অভাবে থিয়েটার করা হয়ে উঠে না। তবে থিয়েটারের প্রতি যে ভালোবাসাটা আমার ছিল সেটা থাকবে সবসময়।

একজন অভিনয় শিল্পীর থিয়েটার করাটা কতটা জরুরী?
আমি মনে করি, একজন অভিনয় শিল্পীর থিয়েটার করাটা অনেক জরুরী। কারণ অভিনয় শেখার প্রথম জায়গা থিয়েটার।

একজন নির্মাতা এবং অভিনয় শিল্পীর মধ্যে কেমন সম্পর্ক থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এর আগে বা পরে কোনকিছু নেই। একজন অভিনয় শিল্পীকে নির্মাতার প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। নির্মাতারও বুঝতে হবে শিল্পীর চরিত্রটি কী হবে, পর্দায় সেটি কিভাবে ফুটিয়ে তোলা যাবে। এই ব্যাপারটা তাদের দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া হলেই হয়।

অভিনয়ের জন্য গ্ল্যামার কতোটা জরুরী?
অভিনয়ের জন্য গ্ল্যামার মোটেও দরকার নেই। অভিনয়ের জন্য গ্ল্যামার দরকার- একথা আমি কখনোই মেনে নিতে পারব না। আগে অবশ্যই Mithila22eঅভিনয় জানতে হবে। সেক্ষেত্রে গ্লামার থাকলে অবশ্যই সেটা হবে অভিনেতা-অভিনেত্রীর একটা প্লাস পয়েন্ট। খেয়াল করলে দেখবেন, যদি গ্ল্যামার থাকলেই ভালো অভিনয় করা যেত, তবে আমাদের দেশে অনেক ভালো অভিনেতা বা অভিনেত্রীর জন্ম হতো না।

টিভির অনেকেই এখন ছবিতে অভিনয় করছেন। আপনিও করবেন?
প্রথম কথা হল অভিনয় তো অভিনয়। সেটা টিভি বা ছবি যাই হোক না কেন। ভালো নির্মাতা এবং ভালো চিত্রনাট্য পেলে আপত্তি নেই সিনেমার নায়িকা হতে।

গান লিখেছেন। টিভি নাটক কিংবা উপন্যাস লিখবেন কবে?
গান লিখবো বা গাইবো সেটা কোনদিনই আমার ভাবনায়ও ছিলনা। মন চেয়েছে তাই গান লিখেছি, গেয়েছি। ফলে আপাতত বলতে পারছি না কবে নাটক, উপন্যাস লিখবো। তবে একদিন লিখেও ফেলতে পাড়ি।

নতুন অ্যালবামের কাজ কবে শুরু করবেন?
আগে তাহসান দেশে ফিরে আসুক। তারপর শুরু করব।

তাহসানের সাথে আপনার পরিচয় কিভাবে?
তখন আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। আমাদের এক কমন ফ্রেন্ডের মাধ্যমে তাহসানের সাথে পরিচয় হয়। এক সময় আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া হয়। আমরা একসঙ্গে গল্প করতাম, ঘুরতাম। তারপর এক সময় আমরা আবিষ্কার করি যে, আমরা একে অপরকে ভালোবাসি। পরে দুই পরিবারের সম্মতি নিয়ে আমরা বিয়ে করি।

গায়ক তাহসান এবং স্বামী তাহসানের মধ্যে পার্থক্য কী?
Mithila_Tahsan গায়ক তাহসানকে আমার খুবই ভালো লাগে। আর স্বামী হিসেবে ও অনেক বেশি ভালো। এই যে এখন আমেরিকাতে আছে সেখান থেকেও প্রায় প্রতিদিনই ফোন করে খোঁজ-খবর নিচ্ছে।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন কী?
বাবা মায়ের প্রত্যাশা পূরণ করা এবং নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে প্রকাশ করা।


ছবি তুলেছেন : আশীষ সেনগুপ্ত

সুত্র - গ্লিটস/২২ অক্টোবর ২০০৮