গ্ল্যামার অবশ্যই একটা প্লাস পয়েন্ট: সজল
কেমন আছেন? এখন কি কাজ করছেন?
আমি অনেক ভালো আছি। এখন আবু সাইয়ীদের নাম চূড়ান্ত না হওয়া একটি এক পর্বের নাটকে কাজ করছি।
এই নাটকের গল্পটি কেমন?
এখানে আমি অদৃশ্য এক ছেলের চরিত্রে অভিনয় করছি। ছেলেটা ড্রাগ নিতে নিতে একসময় মারা যায়। এরপরে তার আত্মা ফিরে আসে এবং বাবা-মা এবং বোনের কাছাকাছি থাকে। তাদের সাথে কথা বলে প্রতিদিন। কিন্তু কেউ তার কথা শুনতে পায় না।
এটা ছাড়াও আরো কয়েকটি এক পর্বের নাটকে অভিনয় করব।
এবারের ঈদে তো আপনার তেরটি নাটক প্রচার হলো। নিজের অভিনীত নাটকগুলো দেখেছেন?
সবগুলো নাটক তো আর দেখা হয়নি। তবে বেশিরভাগ নাটকই দেখেছি। যেগুলো দেখতে পারিনি সেগুলোর সিডি কালেক্ট করে নেব।
নিজের নাটক দেখে কখনো কি এমন মনে হয়েছে যে, অভিনয়টা আরেকটু ভালো করা যেত?
হ্যাঁ। অনেকবার এরকম হয়েছে।
এখন ব্যস্ততা কেমন?
এই যে এতোগুলো একক নাটক এবং ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন। একটি নাটকের চরিত্র কি অন্য একটি নাটকের চরিত্রের সাথে মিলে গেছে?
এখনও পর্যন্ত এ ধরনের অভিজ্ঞতা আমার হয়নি। তবে কখনো কখনো একটি চরিত্র অন্য একটি চরিত্রের সাথে আংশিক মিলে যায়। আমার কাছে মনে হয়, চরিত্রের ভিন্নতা না থাকলে কাজ করে মজা পাওয়া যায়না।
কখনো কি এমন হয়েছে যে, নাটকের চরিত্র নিজের চরিত্রের সাথে মিলে গেছে?
আসলে নাটকের চরিত্রগুলোতে ক্ষণিকের জন্য এক ধরনের মুখোশ পরা থাকে। মুখোশটা খুললেই আসল চরিত্র বের হয়ে আসে। আমি একটি নাটকে সেই চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করি।
একজন নির্মাতা এবং অভিনয় শিল্পীর মধ্যে কেমন সম্পর্ক থাকা উচিত বলে আপনি মনে করেন?
অবশ্যই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এর আগে বা পরে কোনকিছু নেই। একজন অভিনয় শিল্পীকে নির্মাতার প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। নির্মাতারও বুঝতে হবে শিল্পীর চরিত্রটি কি হবে, পর্দায় সেটি কিভাবে ফুটিয়ে তোলা যাবে। এই ব্যাপারটা তাদের দুজনের মধ্যে বোঝা-পড়া হলেই হয়।
অনেকেই বলেন, গ্ল্যামারের আড়ালে নাকি অভিনয় প্রতিভা চাপা পড়ে যায়। আপনি কি বলেন?
সম্পূর্ন ভ্রান্ত ধারণা। এ কথা আমি কখনো মেনে নিতে পারব না। আগে অবশ্যই অভিনয় জানতে হবে। আর গ্ল্যামার অবশ্যই একটা প্লাস পয়েন্ট। যদি গ্ল্যামার থাকলেই ভালো অভিনয় করা যেত, তবে আমাদের এই দেশে অনেক ভালো অভিনেতা বা অভিনেত্রীর জন্ম হতো না।
উপস্থাপনার জন্য প্রথমে যেটি প্রয়োজন তা হলো- ভালো উচ্চারণ, পরিষ্কার বাংলা। যদি সে বাংলায় উচ্চারণ করে তবে তাকে বিশুদ্ধ বাংলা বলতে হবে। আর ইংরেজিতে উচ্চারণ করলে তা বিশুদ্ধ ইংরেজী হতে হবে। আধা বাংলা এবং আধা ইংরেজীতে কখনো উপস্থাপনা করা উচিত নয়। আর যে জিনিসটা সব সময় খেয়াল রাখতে হবে তা হলো- আমি কী অনুষ্ঠান করছি, কার জন্য করছি, কোথায় করছি- এসবের ওপর নির্ভর করবে উপস্থাপনা হবে।
মডেল, অভিনেতা, উপস্থাপক-অনেকগুলো পরিচয় আপনার। কোনটায় স্বচ্ছন্দ বোধ করেন?
আমাকে মডেল এবং অভিনেতা হিসেবেই সবাই চেনেন। আর উপস্থাপনা করেছি নিতান্তই শখের বশে। তবে যাই করি না কেন, নিজেকে আমি অভিনেতা ভাবতেই ভালোবাসি।
এবারই প্রথম বড় পর্দায় অভিনয় করলেন। কেমন লাগছে ভাবতে যখন আপনি হিরো?
আমি নিজেকে নায়ক বানাতে এই মিডিয়াতে আসিনি। আমি চাই ভালো অভিনয় করে মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে।
'নিঝুম অরণ্যে'র আগেও অনেক ছবিতে অভিনয়ের অফার এসেছিল। কিন্তু আমি রাজি হই নি। আসলে ভালো মানের, ভালো চরিত্র এবং অভিনয়ের সুযোগ সম্পন্ন কাজের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। এই ছবিতে কাজ করে আমি খুশি।
সিনেমায় নিয়মিত হতে চান?
আগে তো আমার প্রথম ছবিটি রিলিজ হোক। যদি আমাদের ছবির দর্শক আমাকে গ্রহণ করে তাহলে আমি সিনেমায় নিয়মিত হব।
কবে নাগাদ 'নিঝুম অরণ্যে' মুক্তি পাবে?
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আশা করছি আগামী ঈদে এই ছবিটি দর্শক দেখতে পাবেন।
ছবিতে আপনার চরিত্রের নাম কী এবং গল্পটি কিভাবে এগুবে?
ছবিতে আমার চরিত্রের নাম সৈকত। আমি একজন লেখক। ছদ্মনামে উপন্যাস লিখে অনেক জনপ্রিয়তা পাওয়া এক তরুণ লেখকের চরিত্রে অভিনয় করেছি। আর ছবির পটভূমি মূলতঃ '৭১ সাল থেকে '৮০ সাল পর্যন্ত সময়কালে মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত একটি পরিবারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। জীবনঘনিষ্ট এই সিনেমার কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন মাহবুব জামিল। পরিচালনা করছেন মুশফিকুর রহমান গুলজার। সঙ্গীত পরিচালনা করছেন সাবাব আলী আরজু। বাংলাদেশে এই প্রথম ৫৩৫/বি ক্যামেরায় ছবিটির চিত্রগ্রহণ করেছেন জেড এইচ মিন্টু। আমরা শুটিং করেছি কাপ্তাই পেপারমিল, কাপ্তাই হ্রদ এবং অরণ্যে ঘেরা রাঙামাটির মনোরম স্থানে। আরো জানানোর মতো তথ্য হলো, ছবিতে আমাদের সাথে অভিনয় করেছেন এক সময়ের পর্দাকাঁপানো জুটি ইলিয়াস কাঞ্চন এবং চম্পা।
ইলিয়াস কাঞ্চন-চম্পা'র সঙ্গে কাজ করে কী অভিজ্ঞতা হয়েছে?
আমি অনেক আনন্দিত যে, তাদের সাথে কাজ করেছি। আমরা যারা ছোটপর্দায় কাজ করি তারা কিন্তু ফিল্মের ভাষা বুঝি না। তারা দুজনে আমাদের অনেক বেশি সাহায্য এবং সহযোগিতা করেছেন।
ছবির শুটিংয়ের কোনো মজার ঘটনা মনে পড়ে?
শুটিংয়ের সময়ে নানা মজার ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে একটা বলি- একটি দৃশ্যে এমন ছিল- আমি বাঁধনকে (বাঁধন, লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার ও নিঝুম অরণ্যে চলচ্চিত্রের নায়িকা) নিয়ে ঝরনার দিকে এগুতে থাকব। প্রোডাকশনের লোকেরা জায়গাটি দেখে এসেছে। তারা বলল, এতোটুকু যাবেন। এরপর আর যাবেন না। আমরা চক দিয়ে দাগ দিয়ে এসেছি। আমি তো শট দিতে গিয়ে ঝরনার পানিতে নেমে বাঁধনকে নিয়ে হাঁটছি। মনে আছে যে, চকের দাগের বাইরে যাওয়া যাবে না। বেশ দূরেই চকের দাগ। কিন' একটুখানি হাঁটার পর সামনে পা ফেলে আর তো মাটি পাই না! ঘটনা কী বোঝার আগেই বুক পর্যন্ত পানির নিচে নেমে গেলাম। আসলে প্রোডাকশানের লোকেরা জায়গাটি ঠিকমতো পরীক্ষা করেনি। ফলে আমার এই দশা হয়েছিল। পরে এই ব্যাপারটি নিয়ে অনেক হাসাহাসি করেছিলেন কাঞ্চন ভাই।
সুত্র - গ্লিটস/১৬ অক্টোবর ২০০৮
No comments:
Post a Comment