সরকার মঞ্চ নাটককে সবসময়ই ভয় পায়-মামুনুর রশীদ
নাট্যদল 'আরণ্যক' সরকারি অর্থে বিদেশ গেল, আপনার অভিমত কি?
এটা খুবই সুখের কথা যে, কোন একটি নাট্যদল সরকারি অর্থে বিদেশ গেল এবং দলটি বাছাই করেছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন-এটাও খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এর আগের যা কিছু, সবই করেছে সরকার। কোন জনপ্রতিনিধিত্বমূলক প্রতিষ্ঠান তাদের সাথে যুক্ত হয়নি। তারা (সরকার) নিজেদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয়। কিন্তু এবার যেটা হলো, তা খুবই ভালো উদ্যোগ। ওখানে (দক্ষিণ কোরিয়া) সব কমিটিই আমাদের যথেষ্ট অভ্যর্থনা দিয়েছে। যেখানে উৎসবটা (মাসান ইন্টান্যাশনাল থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল) হয়েছে, তা সিউল থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে। সেখানে আমাদের রাষ্ট্রদূত গিয়েছেন, নাটক দেখেছেন। তিনি একটি নৈশভোজেরও আয়োজন করেছেন, আয়োজকদেরও দাওয়াত দিয়েছেন। সব মিলিয়ে এই সফর বাংলাদেশের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ।
কোথায় কোথায় নাটকটি মঞ্চস্থ হয়েছে?
'মাসান ইন্টান্যাশনাল থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল'-এ নাটকটির শুধুমাত্র একটি শো-ই হয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক যে, সরকারের এত টাকা খরচ করে, এতদূর গিয়েও একটিমাত্র শো করতে হয়েছে আমাদের! তবে আনন্দের বিষয় হলো, এই উৎসব হচ্ছে ২০ বছর ধরে। ফলে আমাদের অংশগ্রহণটা গুরুত্বপূর্ণ।
আমাদের নাটক সম্পর্কে ওখানকার মানুষের ধারণা কী? তারা কিভাবে গ্রহন করেছে 'আরণ্যক'কে?
'রাঢ়াঙ' শব্দের অর্থ কি?
দূর মাদলের ধ্বনি।
রাঢ়াঙ-এর প্লট আপনার মাথায় কিভাবে এলো?
বেশ কয়েক বছর আগে নওগাঁয় আলফ্রেড সরেন নামের এক তরুণ সাঁওতাল নেতা ভূমিদস্যুদের হাতে নিহত হন। এতে ওখানে একটি বিশাল বিক্ষোভ-সমাবেশ হয়। ওখানে আমি গিয়েছিলাম এবং ওখানকার সাঁওতাল নেতৃবৃন্দ আমার হাতে একটি তীর-ধনুক দিয়ে বলেছিলেন, 'আপনাকে কথা দিতে হবে এবং আলফ্রেড সরেনকে নিয়ে একটি নাটক করবেন।' এরপর এটা নিয়ে আমি বেশ গবেষণা করি এবং নাটক বানাই।
রাঢ়াঙ কোন ধরণের নাটক?
রাঢ়াঙ অত্যন্ত নিরীক্ষাধর্মী নাটক। আমরা প্রচলিত মঞ্চে নাটকটি করি না। 'অ্যারেনা' মঞ্চে নাটকটি করি, যার চারদিকে দর্শক থাকেন।
এর কাহিনীটা কি বলবেন?
কাহিনী শূরু হয়েছে ১৯৫৯ সালে রাজশাহীর সীমান্তবর্তী নওগাঁ অঞ্চলে সাঁওতাল বিদ্রোহের মাধ্যমে। যার নেতৃত্ব দেন ইলা মিত্র। তিনি 'রাণীমা' বলেই বেশি পরিচিত। পরে অবশ্য বিদ্রোহটি ব্যর্থ হয়। তবে বৃটিশদের বিপক্ষে বারবার সংগ্রাম আর লড়াইয়ে এই জনগোষ্ঠীর হাজির হওয়ার আর একটি নমুনা এই বিদ্রোহ।
আমরা জানি নাটকটি করতে আপনি নানা গবেষণা করেছেন, এ সম্পর্কে কিছু বলুন।
এই নাটক তৈরি করতে গিয়ে আমি যা করেছি তা হলো, আদিবাসী সংস্কৃতি অনুধাবন করা, ওদের গান, ওদের কথা-এগুলো নিয়ে কাজ করেছি।
নাটকটি দেশের গণ্ডিকে অতিক্রম করলো। এতে কী লাভ হবে বলে আপনি মনে করেন?
এই যে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়- এতে অনেক লাভ হবে বাংলাদেশের। যদি আমরা এমন প্রতিনিধিত্বমূলক শিল্প নিয়ে বিদেশে যাই এবং ওরাও আসে, তাহলে নাটকের উৎকর্ষতা বাড়বে।
স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম কোন নাটক সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেল। এতোদিন কেন পাওয়া সম্ভব হয়নি?
এটা সরকারের ব্যাপার। আসলে সরকার মঞ্চ নাটককে সবসময়ই ভয় পায়। আগে যারা সরকারে ছিল তারা মনে করেছে, নাটকের চেয়ে গান, নাচ-এটাই বেশি ভালো। তাই হয়তো নাটক স্থান পায়নি।
আকাশ সংস্কৃতির যুগে মঞ্চ নাটক কোন অবস্থায় আছে?
আকাশ সংস্কৃতি মঞ্চে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। এত চ্যানেলের পরেও আমাদের থিয়েটার দর্শকপূর্ণ থাকে। এতেই প্রমাণ হয়, মঞ্চ নাটকের উৎকর্ষতা কত।
সুত্র - গ্লিটস/২১ আগস্ট ২০০৮
No comments:
Post a Comment